শান্তিগঞ্জে বন্দোবস্তকৃত জায়গায় পথ দখলের অভিযোগ/ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হোক

জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামে সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে পাকা ঘর নির্মাণ করে অন্য মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়ার একটি সংবাদ গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। চলাচলের পথ বন্ধ করার কারণে ভূক্তভোগীরা এ কারণে শান্তিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, জয়কলস গ্রামের রইছ উদ্দিন ও তার স্ত্রী পিয়ারা বেগমের নামে কিছু খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। সংবাদের তথ্য অনুসারে, বন্দোবস্তকৃত জায়গার মধ্যে কিছু রাস্তার জায়গাও ছিলো। ওই পথ দিয়ে এলাকার ৮টি পরিবার যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি রইছ উদ্দিন বন্দোবস্তকৃত জায়গায় পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এতে ৮টি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ভূক্তভোগীরা ঘর নির্মাণের সময় বাধা দেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্যদের হস্তক্ষেপে রইছ উদ্দিন মূল কাঠামোর অর্ধেক জায়গায় একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন। এই টিনশেড ঘর নির্মাণের পরেও চলাচলের পথ বন্ধ রয়েছে কি-না সংবাদে সেটি স্পষ্ট করা হয়নি (স্পষ্ট করা উচিৎ ছিলো)।
খাস জায়গা বন্দোবস্ত প্রদানের কার্যক্রম সরকারের একটি মহতী উদ্যোগ। ভূমিহীনদের মাথা গোঁজার ঠাই করে দিতে সরকার দেশব্যাপী এই কাজটি করে যাচ্ছেন। খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়া ছাড়াও আশ্রয়ণ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প, বীরনিবাস প্রভৃতি নানা প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার দেশের সকল আশ্রয়হীনদের নিজস্ব ঠিকানা দেয়ার মহাযজ্ঞ শুরু করেছেন। তৃণমূলের অতিসাধারণ মানুষ এতে উপকার পাচ্ছেন। যে পরিবার জীবনে নিজের একটুকরো বাসগৃহের স্বপ্ন দেখে নাই সেও আজ নিজের ঘর পাচ্ছে। কিছু লোক সরকারের এই মহতী উদ্যোগের সুযোগ নিয়ে এমন কিছু কাজ করেন যা অন্যের জন্য সমস্যার কারণ হয়। কিছু ব্যক্তি অনৈতিক কাজও করে থাকেন। বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর গ্রহীতারা বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘরে বসবাস না করে তালাবদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসবই বরাদ্দের জন্য ভুল ব্যক্তি নির্বাচনের কারণে ঘটে থাকে। জয়কলস গ্রামের কথিত অভিযোগ মতে যদি রইছ উদ্দিন কর্তৃক সত্যিকার অর্থেই ঘর নির্মাণ করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ কিংবা সংকুচিত করে দেয়া হয় তাহলে সেটি হবে ভীষণ রকম অন্যায় ও অপকর্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্ম। শান্তিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেছেন, বন্দোবস্তকৃত জায়গায় পাকা ঘর নির্মাণের সুযোগ নেই। তিনি শান্তিগঞ্জের সহকারি কমিশনার (ভূমি)কে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বন্দোবস্ত বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
যেহেতু অভিযোগটির সাথে আরও ৮টি পরিবারের চলাচলের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন জড়িত তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি। বন্দোবস্ত গ্রহীতা মানেই যা কিছু করার অধিকার রাখেন না। আবার বন্দোবস্তগ্রহীতা সত্যিই অন্যায় করেছেন কি-না তা সঠিকভাবে যাচাই বাছাই না করে একতরফা ব্যবস্থা গ্রহণ করাও হবে অনুচিত। বিভিন্ন জায়গায় আমরা সত্যিকার ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত বাতিলের ঘটনা জানি যেখানে অহেতুক বা দুর্বল কারণে তাদের বন্দোবস্ত বাতিল করে দাপুটে ব্যক্তিদের নামে পুনরায় বন্দোবস্ত দেয়া হয়। আলোচ্যক্ষেত্রে যাতে কোনো পক্ষই অন্যায্যতার শিকার না হন প্রশাসনকে তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।