ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সকাল ৯টা থেকে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হলেও নি¤œ আয়ের ক্রেতারা ডিলারের দোকানের সামনে ঘন্টাখানেক আগে থেকেই ভীড় জমান। নির্ধারিত সময়ে চাল বিক্রি শুরু হলে ক্রেতারা লাইনে দাঁড়িয়ে চাল কিনতে শুরু করেন। বরাদ্দ কম থাকায় মাত্র ২০০ জন ব্যক্তি সেই চাল কেনার সুযোগ পান। কিন্তু সেখানে উপস্থিত অতিরিক্ত ক্রেতারা চাল না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেন। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা সদরের থানা রোডে অবস্থিত ওএমএস ডিলারের দোকানের সামনে প্রতিদিনই ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন ও এমন চিত্র দেখা যায়।
ধর্মপাশা উপজেলায় খোলা বাজারে প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে চাল বিক্রির জন্য সদর ও পাইকুরাটি ইউনিয়নে দুজন ডিলার রয়েছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি ডিলার দৈনিক ১ টন (সপ্তাহে ৫দিন) করে চাল বরাদ্দ পান। বরাদ্দকৃত চাল দৈনিক জনপ্রতি ৫ কেজি করে ২০০ জন ক্রেতার মাঝে বিক্রয় করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সদর ইউনিয়নের ডিলারের দোকানে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিনশ মানুষ ভীড় করেন। ফলে অতিরিক্ত ক্রেতারা চাল কিনতে পারেন না। ফলে ক্রেতারা বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা সাবিনা বেগম বলেন, ‘সহালে (সকালে) গিয়া লাইনে খাড়ইয়াও (দাঁড়িয়ে) চাউল (চাল) পাইনা। ১১টার মধ্যেই নাকি চাউল বেচা (বিক্রি) অইয়া যায়।’
একই ইউনিয়নের দেওলা গ্রামের সেতু মিয়া বলেন, ‘বাড়ি থেকে থেকে ডিলারের দোকানে যেতেই ঘন্টাখানেক সময় লাগে। দোকানে যাওয়ার আগেই চাল বিক্রি হয়ে যায়। ফলে খালি হাতে ফিরতে হয়। তাই বরাদ্দ বাড়ানো হলে নি¤œ আয়ের মানুষেরা উপকৃত হই।’
সদর ইউনিয়নের ওএমএস ডিলার তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চাল বিক্রি করার সময়। অথচ সকাল ১১টার মধ্যেই বরাদ্দকৃত চাল বিক্রি শেষ হয়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত ক্রেতাদের চাল সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। তাই বরাদ্দ বাড়ানো হলে দরিদ্র মানুষেরা উপকৃত হবেন।’
ধর্মপাশা খাদ্যগুদামের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় এই (১ টন) বরাদ্দ অনেকটাই কম। আগে দুই টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হতো। কিন্তু এখন চাহিদা বেশি থাকায় ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই সব চাল বিক্রি হয়ে যায়। বরাদ্দ বাড়ানো হলেই ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।’


