স্টাফ রিপোর্টার
মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের ৫১তম বার্ষিকীতে বীর সন্তানদের স্মরণ করেছে সর্বস্তরের জনগণ। শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা নিবেদনে ঢল নামে মানুষের। শ্রদ্ধাবনত চিত্তে মানুষ স্মরণ করেছে জাতির সূর্য সন্তানদের। তাঁদের এই আত্মদানকে স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গঠনের প্রত্যয় নিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে আসা সবাই। এসময় সা¤প্রদায়িক অপশক্তি উৎখাত, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিসহ সকল ‘অন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’ রুখে দেয়ার দাবি জানানো হয়। প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী। এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহ্সান শাহ, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন সহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি ভবন ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সকাল সাড়ে ৮টায় সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী। এরপর কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহিদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহ্সান শাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, বাসগৃহ এবং চিকিৎসা সুবিধাসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন প্রকার সহযোগিতা সরকার প্রদান করেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ বর্তমান সরকারের কাছে সর্বোচ্চ সম্মানের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের সাথে জীবন যাপন করার জন্য সকল সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আমরা এই দেশটা পেয়েছি। বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
দুপুরে হাসপাতাল, জেলাখানা ও শিশু পরিবারে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন, দুপুর ২.৩০ মিনিটে মহিলা কল্যাণ কেন্দ্রে মহিলা সমাবেশ ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান, বিকাল ৩টায় জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন ও পৌর একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক বিরোধী ও ধমীর্য় সহিংসতা কার্যক্রমে জনমত সৃষ্টির জন্য, শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধমীর্য় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
সন্ধ্যা ৬টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযক্তির সবোর্ত্তম ব্যবহার’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী। স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহ্সান শাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রজত কান্তি সোম প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এরপর জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বিকালে বিজয় মিছিল করে জেলা আওয়ামী লীগ। রমিজ বিপণিস্থ সংগঠনের কার্যালয় থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বিজয় মিছিলে নেতৃত্বে বিজয় মিছিলটি বের হয়। বিজয় মিছিলে জেলা আওয়ামীলীগ অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্যানক্রেড হাসপাতাল
সুনামগঞ্জ স্যানক্রেড হাসপাতাল ও স্যানক্রেড কমিউনিটি প্যারামেডিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিটি প্যারামেডিক হল রুমে অধ্যক্ষ মি. পলাশ চিছাম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পবিত্র কোর—আন, পবিত্র গীতা ও পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন ইনস্টিটিউটের ছাত্র—ছাত্রীরা। অনুষ্ঠানটিতে ছিল দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্ববোধক গান পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গারো খ্রিস্টান সোসাইটি, সুনামগঞ্জের সভাপতি মি. অপূর্ব চিসিম। সাইদুল ইসলাম ও তাহমিনা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক মিসেস রেনুকা রিছিল, আমোস রিছিল, কমিউনিটি প্যারামেডিক সাইদুল প্রমুখ।
শীতবস্ত্র বিতরণ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৭৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। শিক্ষার্থীর সমাবেশে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের প্রায় ৩০০ পৌরবাসীর মধ্যে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়।
ফ্রি চিকিৎসা প্রদান
মহান বিজয় দিবসে হতদরিদ্রদেরকে ফ্রি চিকিৎসা, ওষুধ ও শীতবস্ত্র প্রদান করেছে সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি। শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী গুচ্চগ্রামের দুই শতাধিক ব্যক্তিকে এই সহায়তা দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ২৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. ক. মো. মাহবুবুর রহমান, মেডিকেল অফিসার মেজর নাজমুল হাসান প্রমুখ।
এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন দিবস উপলক্ষে নানান কর্মসূচি পালন করেছে।


