মোবাইল প্রতারকচক্র হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি
মোবাইল প্রতারকরা নানা কৌশলে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। টাকা খুইয়ে প্রতিকারের আশায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ নানাজনের কাছে ঘুরে প্রতারকদের নাগাল পাচ্ছেন না কেউই। ব্যবসায়ী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির ভাতাভোগীদের সম্প্রতি টার্গেট করে টাকা হাতাচ্ছে প্রতারকরা।
সুনামগঞ্জ শহরতলির একটি বড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (পরিচয় প্রকাশ করতে চান নি) মঙ্গলবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অভিনব কায়দায় তার কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা।
ওই শিক্ষক জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচয় দিয়ে ওই প্রতারক তাঁকে ফোন (নম্বর ০১৭১৮৩০৬৯২৯) দিয়ে জানায়, বিদ্যালয়ের অনুদানের চার লাখ টাকার চেক হয়েছে, তিনি সোনালী ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসারের সঙ্গে যেন যোগাযোগ করেন। সোনালী ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসারের মোবাইল নম্বরও (নম্বর ০১৮৫০৩৫৬৩৫০) প্রধান শিক্ষককে জানায় ওই প্রতারক।
প্রধান শিক্ষক ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে জমা হওয়া চেকের নম্বর জানতে চাওয়া হয়। তিনি আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্টাফ পরিচয়দানকারী প্রতারকের কাছে ফোন দেন। সঙ্গে সঙ্গেই চেক নম্বর বলে দেয় ওই প্রতারক। সোনালী ব্যাংকের পরিচয় ব্যবহারকারী প্রতারককে চেকের নম্বর ফোনে জানাতেই জানিয়ে দেয় চেক আসছে। কিন্তু ভ্যাটের টাকা জমা হয় নি। প্রধান শিক্ষককে এই প্রতারক (সোনালী ব্যাংকের পরিচয় ব্যবহারকারী) জানায়, ব্র্যাক ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে চেক এসেছে, ওখানে ভ্যাটের টাকা জমা দিতে হবে। ব্র্যাক ব্যাংকে মতিঝিল শাখার ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে আরেক প্রতারকের নম্বর (০১৯১৮৩১৯৮৭৮) দেয় সে। এই প্রতারক (ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচয়দানকারী প্রতারক) প্রধান শিক্ষককে ১৪ হাজার ৪০০ টাকা তার নম্বরে পাঠানোর কথা বলে। ১৪ হাজার ৪০০ টাকা পাঠানোর পর সোনালী ব্যাংকের পরিচয় ব্যবহারকারী প্রতারক ফোন দিয়ে বলে চার লাখ টাকার ভ্যাট ২৪ হাজার টাকা। ১৪ হাজার চারশ দিলে হবে না। পরে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা পাঠিয়ে প্রতারণার শিকার হন এই প্রধান শিক্ষক।
সুনামগঞ্জ শহরতলির নবীনগরের বাসিন্দা সজীব পাল বেসরকারি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। সপ্তাহ খানেক আগে তাকে এক প্রতারক সমাজসেবা অফিসের স্টাফ পরিচয়ে ফোন (নম্বর ০১৬১৯২৬২৮৭৫) দিয়ে জানায়, আপনার বিধবা ভাতাভোগী দাদীর জন্য পাঁচ হাজার ছয়শ টাকা এসেছে, আপনি এই টাকা তাকে দেবেন। তারা তাকে একটি ড়ঃঢ় কোড পাঠায়। এক পর্যায়ে পাঁচ হাজার ছয়শ টাকা রিচার্জ করায় তাকে। পরে তার মোবাইল হ্যাক করে ০১৭৪০৩২০২৯৩ বিকাশ নম্বরে ১১ হাজার ছয়শ টাকা নিয়ে যায়।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর খানকে এক প্রতারক বিকাশ কার্যালয়ের পরিচয় দিয়ে জানায়, তার (আব্দুল গফুরের) বিকাশ নম্বর লক হয়ে আছে। একটি ড়ঃঢ় নম্বর তার মোবাইলে এসেছে, তিনি যেন সেটি জানান। এভাবে দুইবার ড়ঃঢ় নম্বর পাঠিয়ে তার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা নিয়ে যায় প্রতারকচক্র। এভাবে প্রতিদিনই কেউ না কেউ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আতিকুর রহমান জানালেন, ০১৮৫০৩৫৬৩৫০ নম্বরটি সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার কারো নয়। কলার আইডিতি এসেছে এই ফোন নম্বরটি রাফসা বেগম নামে একজনের।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুচিত্রা রায় বললেন, ভাতা ভোগীরা প্রায়ই এ ধরণের প্রতারণার শিকার হন। সকলকে এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে। সকল ধরণের উঠোন বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বললেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ অন্যদেরকে জানানো জরুরি। অনেকেই মোবাইল প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ছেন।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানালেন, মোবাইল চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে যারা আসেন, ট্যাকিং করে আন্তরিকভাবেই সহযোগিতা করছেন তারা।