ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণের শুরু থেকেই স্থানীয় কৃষক, বিশিষ্টজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের অভিযোগ করে আসছিলেন। প্রতিবছরই এরকম অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ ও প্রাক্কলনে অতিরিক্ত বরাদ্দ দানের বিষয়টি বেশ জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বা বাঁধ নির্মাণের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের টনক নড়তে দেখি না আমরা। বেশিরভাগ বাঁধই সংস্কারের আওতায় থাকে। নতুন বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেই বললেই চলে। পুরনো বাঁধগুলো বছর বছর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এসব বাঁধ অল্প টাকাতেই সংস্কার করা সম্ভব। কিন্তু এসব বাঁধের প্রাক্কলনে অতিরিক্ত কাজ দেখিয়ে বরাদ্দ বাড়িয়ে সরকারি অর্থের অপচয় এখন একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রতিবছরই দুর্বল বাঁধ নির্মাণের প্রসঙ্গটি সামনে আসে। মাঝারী মানের ঢলও মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয় এই বাঁধগুলো। অর্থাৎ দুইভাবে বাঁধ নির্মাণের অর্থের অপব্যবহার হয়। এক হলো অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ও অতিরিক্ত বরাদ্দ দানের মাধ্যমে অন্যটি হলো- প্রয়োজনমাফিক মানসম্মত কাজ না করে। এসব অভিযোগ যে অমূলক নয় তার বাস্তব প্রমাণ মিলল সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক কর্তৃক দোয়ারাবাজার উপজেলার দেখার হাওরে পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) প্রায় ৯৮ লাখ টাকার অপ্রয়োজনীয় কাজ বন্ধ করার মধ্য দিয়ে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় এরকম প্রায় ৬ কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পও আটকে রেখেছেন জেলা প্রশাসক। সরকারি অর্থের অপচয় রোধে জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগ ও পদক্ষেপকে আমরা অভিনন্দন জানাই।
পুরো জেলায় এবার ৬২৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭০ কোটি টাকা। এজন্য ৯০৪টি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। জেলা কমিটি ইতোমধ্যে ৫৮০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। যে প্রকল্পগুলো জেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদন দেয়া হয়নি তার অনেকগুলোরই প্রয়োজনীয়তা যাচাই বাছাই পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা যায়। আমাদের বিশ্বাস সকল উপজেলাতেই অপ্রয়োজনীয় অনেক প্রকল্প যেমন পাওয়া যাবে তেমনি প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি বরাদ্দ রাখার বাস্তবতারও সন্ধান মিলবে। আশা করি জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বাঁধ নির্মাণ ও বাস্তবায়ন জেলা কমিটির যৌক্তিক কর্মকা- এবার সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখবে।
নানা কারণে এখন জাতীয় অর্থনীতির অবস্থা তেমন ভালো নয়। সরকার অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় সাশ্রয়ের নীতিমালা অনুসরণ করছে। সরকারি টাকার শতভাগ ব্যবহার জনস্বার্থে হওয়া বাঞ্ছনীয়। একটি দালাল ও সুবিধাভোগী শ্রেণিকে অনৈতিক সুবিধা দিতে ফসলরক্ষা বাঁধের মতো অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচী ব্যবহৃত হোক তা কারও কাম্য নয়। জেলা প্রশাসক বলেছেন, ‘অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারি অর্থের অপচয় করতে দেয়া হবে না। কেবল হাওরের ফসল রক্ষার প্রয়োজনেই বাঁধ হবে।’ আমরা তাঁর এ কথাকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সমর্থন জানাই। তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর কথা থাকলেও কার্যত এখনও অধিকাংশ বাঁধের কাজ শুরু করা যায়নি। কাজ শুরু করতে বিলম্ব হলে শেষ দিকে তাড়াহুড়ো করে কাজের মান ঠিক রাখা যায় না। তাই যত দ্রুত সম্ভব সকল বাঁধের কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা এবং কাজের মান বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। বাঁধের বিষয়টি এই জেলার জন্য স্পর্শকাতর একটি কাজ। বড় বা মাঝারী বন্যা হলেই হাওরের ফসল ডুবে যায়। আসন্ন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার অনতম হাতিয়ার দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য এবার যাতে অতীতের পুনরাবৃত্তি না ঘটে তাই সকলের কাম্য।
- কারখানায় কাপড়ের রং দিয়ে মসলা তৈরি, জরিমানা
- অধ্যাপক বাবুল দেবের উপর হামলা প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

