৫ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
দেশ স্বাধীনের পর অপেক্ষায় কেটেছে ৫৩ বছর। কেউ কথা রাখেনি। পিয়াইন নদীতে হয়নি সেতু। সেতু না হওয়ায় কষ্টে রয়েছেন ৫ গ্রামের মানুষ। দুর্ভোগ সহে এলাকাবাসী বর্ষায় নৌকা, শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হয় তাদের। সেতু না হওয়ার কারণে গ্রামগুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বিএনপি সরকারের আমলে বলে আমরা আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ আমলেও ব্রীজটি না হওয়ায় আমরা হতাশ।
এভাবেই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ সদস্য নিশেন্দু কুমার রায়। জামালগঞ্জ উপজেলায় সাচনা বাজার ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পিয়াইন নদীর পাড়েই তার বাড়ী। তার মতো হাজারো মানুষের দাবি পিয়াইন নদীর উপর ভরতপুর-কুকড়াপশী সেতু নির্মাণের।
সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিয়াইন নদীকে খেয়া নৌকার পরিবর্তে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরী করা হয়েছে। এতে বয়স্ক মানুষ, স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। নিরুপায় হয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছে এই সাঁকো দিয়ে।
নদীর উত্তর পারে ভরতপুর, চানপুর, হরিহরপুর, আক্তাপাড়া, খলাচানপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা গয়াচান বিশ^াস, শান্তি রায়, গোপিকা দাস, রানা রায়, গৌরাঙ্গ রায়, দিবাকর চক্রবর্তী ও নজাতপুর গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, পিয়াইন নদীতে সেতু না থাকায় গ্রামে কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। গ্রামের পিছন দিয়ে একটি রাস্তা করা হলেও সেতু না থাকায় রাস্তাটি কোন কাজে আসছে না। নদীটি খর¯্রােতা হওয়ায় খেয়া নৌকা পারপার হতে লাগে বিশ মিনিট। ছেলে-মেয়েদের স্কুল কলেজে যাতায়াত, ফসল পরিবহন ও উপজেলা সদরে যেতে পিয়াইন নদী পার হয়ে যেতে হয়। ভরা মৌসুমে খেয়া নৌকা ডুবে এবং শুকনায় বাঁশের সাকো পার হতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।
মাঝি আমিন মিয়া বলেন, প্রায় ২৭ বছর যাবত পিয়াইন নদীতে মানুষ পারাপার করছি। এজন্য বছরের শেষে গ্রামের সবার কাছ থেকে নির্দিষ্ট টাকা ও ধান নিয়ে থাকি। বর্ষা মৌসুমে খেয়া থাকে, শুকনায় বাঁশের সাঁকো তৈরী করে দিই। তবে এখানে একটা সেতু হলে এই এলাকার মানুষের কষ্ট লাঘব হতো।
এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, এলাকাবাসী যেখানে ব্রীজ করতে বলে সেই পয়েন্টে ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারগণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কারণ ভবিষ্যতে কারিগরী সমস্যা হতে পারে। ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারগন ১০০ফিট দক্ষিণে সরে করতে বললে এলাকাবাসী রাজী না হওয়ার কারণে সেতুর কাজ ঝুলন্ত অবস্থায় আছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন, দীর্ঘদিন যাবত তারা সেতুর প্রত্যাশা করে আসছে। প্রতিটি নির্বাচনে তারা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আসছে। যখনি নির্বাচন আসে তখনই আমরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেই। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন মহোদয়ের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি পিয়াইন নদীতে একটি সেতু নির্মাণ করে বার-বার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার জন্য।