সাঁতার শেখানোর নামে পুকুর নামিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মামাতো বোনকে সাথে নিয়ে প্রতিবেশী ইমাম হোসেনের পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। সেখানে আগে থেকেই গোসল করতে থাকা ইমাম হোসেন কৌশলে স্কুল ছাত্রীর মামাতো বোনকে সেখান থেকে বিদায় করে দেয়। পরে ছাত্রীকে সাঁতার শেখানোর নাম করে মধ্য পুকুরে নিয়ে ছাত্রীর যৌনাঙ্গে আঙুল দিয়ে পৈশাচিক নীপিড়ন চালায়। এতে ছাত্রী চিৎকার দিলে তাকে পানিতে কিছুক্ষণ চুবিয়ে রাখা হয়। কিছুক্ষণ ধরে পর্যায়ক্রমে এভাবেই চলতে থাকে। এরপর চানাচুরের প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি কাউকে জানানো হলে ছুরি দিয়ে ছাত্রীর গলা কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামের মন্নাফ মিয়ার ছেলে ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার দুপুরে আহম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু ছাত্রী ঘটনার দিনই ভয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়নি। পরবর্তীতে যৌনাঙ্গে ব্যথা শুরু হলে ছাত্রী তার মায়ের সাথে ঘটনা খুলে বললে বিষয়টি সামনে আসে। তখন থেকেই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়াসহ ছাত্রীর পরিবারকে হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু করে ইমাম ও তার লোকজন।
ছাত্রীর বাবার বাড়ি উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের একটি গ্রামে। ৫/৬ বছর আগে তার বাবা মারা যান। দীর্ঘ বছর ধরে ছাত্রীর মা আহম্মদপুর গ্রামে তার (ছাত্রী) নানার বাড়িতে বসবাস করে। তার মা গৃহ পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালায় এবং দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে একটি জরাজীর্ণ ঘরে অসহায়ভাবে বসবাস করেন। ছাত্রীর মা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেলবরষ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহীনুর অরফে শাহীন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি শেষ করার উদ্যোগ নেয়। এ সময় ছাত্রীর পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন শাহীন। কিন্তু ছাত্রীর মা এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এ সময় বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারের পক্ষে ৯৯৯-এ কল করে জানালে রাতেই ধর্মপাশা থানা থেকে ছাত্রীর বড় ভাই ও তথ্য প্রদানকারীকে ডাকা হয়। পরবর্তীতে ছাত্রীর পরিবার কি সিদ্ধান্ত নিতে চায় তা পুলিশকে জানানোর জন্য থানা থেকে বলা হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতিত শিশুদের সহায়তামূলক হেল্পলাইন ১০৯৮-এ কল করে সহায়তা চাওয়া হয়। হেল্পলাইন থেকে বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনকে জানানো হয়। ততক্ষণে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন কর্তব্যরত ডাক্তার শিশুটির শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সুনামগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে ইমাম হোসেনের বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রীর রিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী পুকুরে গোসল করছিলেন। তখন ওই মেয়েটা সামনে দুষ্টুমি করিছল। তখন আমার স্বামী তাকে এমনটি না করার জন্য বলে গোসল করে চলে আসে। শাহীন মেম্বারসহ মাতব্বরেরা আমাদের বাড়িতে এসে জানিয়েছে আমার স্বামী নির্দোষ।’
তখন সেখানে উপস্থিত থাকা ইমাম হোসেনের ভাবি জ্যোৎ¯œা আক্তার সাফাই গেয়ে বলেন, ‘মাতব্বরেরা (শাহীনসহ) বাড়িতে এসে বলে গিয়েছে সে (ইমাম) নির্দোষ। তাই তার (ইমাম) কাছে ক্ষমা চেয়েছে মাতব্বরেরা।’
কিন্তু ইউপি সদস্য মো. শাহীনুর বলেন, ‘ইমাম নির্দোষ এ কথা বলিনি। বিষয়টি শেষ করতেও যাইনি। কোনো সালিশ বৈঠক হয়নি। ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। এসব মিথ্যা কথা। এসব বাটপারি আলাপ। আমরা টাউট বাটপারির মধ্যে নাই। কথাবার্তা বলে এ ঘটনার সত্যতা পাইনি। ৯৯৯-এ কল দেওয়া হয়েছে শুনে চলে এসেছি।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’