মধ্যনগরে হাওরের ধান কাটা শেষ

মধ্যনগর প্রতিনিধি
মধ্যনগর উপজেলার ছোট বড় ৩৫টি হাওরের শতভাগ ধান নির্বিঘেœ কেটে তা ঘরে তুলেছেন কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও কোনোরকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেখা দেওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ধানের ফলন ভাল হয়েছে। এদিকে ধানের ফলন ভালো হওয়ায় চারিদিকে আনন্দ উল্লাস বিরাজ করছে। সোনার ফসল ঘরে তুলতে পেরে কৃষক পরিবারগুলোর চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এ বছর হাইব্রিড জাতের মধ্যে জনকরাজ, ১২০৩ ধানের ফলন হয়েছে প্রতি শতকে ১ মণ। সুরভী-১, ইস্পাহানি-৮ ও ইস্পাহানি-৬ জাতের ধানের ফলন হয়েছে কিয়ার (৩২ শতক) প্রতি ২৫ থেকে ২৮ মণ। উফশী জাতের ব্রি-২৮ ধানে ব্লাস্ট সংক্রমণে কৃষক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে উফশী জাতের ব্রি-৯২, ব্রি-৮৯ জাতের ধানের ফলন হয়েছে কিয়ার (৩২ শতক) প্রতি ২৭ থেকে ৩০ মণ। এছাড়া দেশী জাতের ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে উপজেলার প্রায় ২১ হাজার কৃষক বোরো ধানের আবাদ করেছেন।
আবাদকৃত জমির মধ্যে হাওরে ১০ হাজার ৮৪৯ হেক্টর ও নন- হাওরে (অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি) রয়েছে ২ হাজার ৪১৫ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ হাজার ৪৮১ মে. টন। তবে হাওরের শতভাগ ধান কাটা শেষ হলেও, নন- হাওরের প্রায় ১ হাজার ৭শ হেক্টর জমির ধান কেটে শেষ করতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।
কৃষকেরা জানান, এ বছর আগাম বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশী জাতের ধান কাটা শুরু হয়। এরপর বৈশাখের প্রথম থেকে শুরু হয় হাওরে উফশী ও হাইব্রীড ধান কাটা। এরই মধ্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী গত ২৩ এপ্রিল কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাতের সম্ভাবনার কারণে পুরো হাওর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। কিন্তু ২৩ এপ্রিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত তেমন ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় সেই আতঙ্ক কেটে গেছে।
উপজেলার শালদিঘা হাওরের কৃষক আবুল কাশেম জানান, গত দুই বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান কেটে তা রোদে শুকিয়ে দ্রুত ঘরে তুলছেন। তবে মেশিনের (নন- হাওর) কিছু জমি কাটার বাকী আছে। শিলাবৃষ্টি না হলে সেসব খেতের ধান সুন্দরমতো কেটে আনা যাবে। এখন মূলত শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতই আমাদের জন্য হুমকি।
উপজেলার বাইনছাপড়া হাওরের কৃষক চঞ্চল সরকার বলেন, লামার (হাওরের) জমি কাডা (কাটা) শেষ। অন্নে মিশিনের (নন-হাওর) জমিনে হিল (শিলাবৃষ্টি) না হরলে (পড়লে) আর কোনো সমস্যা নাই। হানি (পানি) আইলেও ধান বাড়িত আইবো।
তিনি আরও বলেন, গেছে (গত) দুইডা বছর আবুধুবের (সন্তানদের) কুনু আউশ রং (শখ) টেহার (টাকার) অভাবে পূরণ করতা হারছিনা (পারিনি)। এই বছর ধান ভালা হইছে। এইবার ঘরের বেহের (পরিবারের সবার) আউশ পূরণ করবাম (করবো)।
মধ্যনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, মধ্যনগর উপজেলায় হাওরের শত ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। গতকাল (মঙ্গলবার) মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হাসান খান বলেন, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক ঠিক মতো ধান কেটে বাড়িতে নিতে পারছেন। এতে কৃষি নির্ভর হাওরের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।