ভাঙাচোরা সড়ক/ ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

মধ্যনগর প্রতিনিধি
আগে বেকটা (সম্পূর্ণ) মাডির (মাটির) পথ আছিন। হেইডা ভালা আছিন। অন্নে (এখন) ইট বিছাইয়া পথটারে খাউরা-খোড়া করছে। অন্নে না যাওন যায় আট্টিয়া (হেঁটে), না যাওন যায় মোটর সাইকেল দিয়া। বছরের পর বছর যাইতাছে, পথটারে ঠিক করার কথা কেউ ভাবে না। আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন, মধ্যনগর উপজেলার মোহাম্মদ আলীপুর গ্রামের বাচ্চুল মিয়া।
গ্রামের উত্তরে ভারত সীমান্ত, দক্ষিণে উপজেলা সদর। উপজেলা সদরের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র সড়কটি ইট বিছানো। এমনিতেই ভাঙাচোরা ছিল সড়কটি। গেলো বছর বন্যায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই পাশে হাওর থাকায় ঢেউয়ের তোড়ে কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙে বিলীন হয়েছে হাওরে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সড়কের ইট। সেতু, কালভার্টের উভয় পাশ থেকে সরে গেছে মাটি। এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষকে যাতায়াত করতে হয় এই সড়কে। এ চিত্র মধ্যনগরের একমাত্র সারা বছর চলাচল উপযোগী (অলওয়েদার) সড়কের।
উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ও চামরদানি ইউনিয়নের জনগণকে এই সড়ক ব্যবহার করেই মধ্যনগর উপজেলা সদরে যোগাযোগ করতে হয়। মধ্যনগর থেকে মহিষখলার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। ওই তিনটি ইউনিয়নের জনগণ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী তাহিরপুর উপজেলার হাজারও মানুষ চলাচল করে সড়কে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় উপজেলার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থা বেহাল। চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। দূর-দূরান্তের যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙাচোরা এই রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাজেদা আহমেদ বলেন, মধ্যনগর উপজেলায় এখনো কোনো হাসপাতাল হয়নি। এখানকার অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্য সেবা নিতে যেতে হয় পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা অথবা পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশায়। যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির এই বেহাল দশায় রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় রাস্তায়ই রোগী মারা যায়।’
উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় মধ্যনগর-মহেষখলা ১২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকালে হাওরের ঢেউয়ের কারণে সৃষ্ট ভাঙন ঠেকাতে পাকা জিও ব্যাগভর্তি বালুর বস্তা দেওয়া হয়, যা নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে ঢেউয়ের আঘাতে ধসে পড়ে।
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজং শ্রী দশরথ চন্দ্র অধিকারী বলেন, মধ্যনগরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে উপজেলার সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জনচলাচলের উপযোগী নয়। সীমান্তবর্তী এলাকা মহিষখলা থেকে উপজেলা কেন্দ্রীক সেবা গ্রহণ করতে মধ্যনগর যাওয়া দুর্ভোগের নামান্তর। তাই অনতিবিলম্বে রাস্তাটি পুন:নির্মাণ করা প্রয়োজন।
উপজেলার চামারদানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর খসরু বলেন, মধ্যনগর উপজেলার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক মেরামত করা হলে চারটি ইউনিয়নের মানুষের দুর্দশা লাঘব হবে।
মধ্যনগর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী (অঃদাঃ) শাহাব উদ্দিন জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি পুন:নির্মাণের জন্য ডিজাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। অতিদ্রুত প্রাক্কালন তৈরি করে নতুন বাজার থেকে বাঙ্গাভিটা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়ক পুন:নির্মাণ কাজ টেন্ডার এ যাবে। আশা করা যায় এই অর্থ বছরেই পুন:নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, যাত্রাপথে মানুষকে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বলা হয়ছে।