এক সপ্তাহ ধরে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না কৃষক

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার দুইটি খাদ্য গুদামে সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না কৃষক। গত এক সপ্তাহ ধরে গুদামে জায়গা নেই অজুহাতে কৃষকদের ধান না কিনে ফিরিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কৃষক ও উপজেলা খাদ্য গুদাম সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের ৫০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা ও রানীগঞ্জ খাদ্য গুদামে এক হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার দুটি গুদাম রয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে সরকার এক হাজার দুইশত টাকা মন দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করে। নিয়ম অনুযায়ী ৮ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান কেনার কথা। তারমধ্যে জগন্নাথপুর খাদ্য গুদামে ৯০৬ মেট্রিকটন ধান কেনার কথা থাকলেও গত ১২ জুন পর্যন্ত ১৫০ জন কৃষকের কাছ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়। এখনো ৫৪১ জন কৃষক ধান দিতে অপেক্ষামান তালিকায় রয়েছেন। অনুরূপ ভাবে রানীগঞ্জ খাদ্য গুদামে ৭২৯ মেট্রিক টন ধান কেনার কথা থাকলেও কেনা হয়ে ৩৩২ মেট্রিক টন ধান।
জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক সফিক মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ধান নিয়ে গুদামে গেলে গুদামের দায়িত্ব প্রাপ্ত কমকর্তা গুদামে এখন ধান রাখার জায়গা নেই বলে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ধান কেনার শুরুতে ধান নিয়ে গুদামে গেলে ধান কেনার যথেষ্ট সময় আছে বলে পরে দিতে অনুরোধ করেন। এখন তো আর ধান দিতে পারছি না।
উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের কৃষক মনু মিয়া বলেন, গুদামে ধান বিক্রির জন্য ধান শুকিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছিলাম, এক সপ্তাহ ধরে নানা অজুহাতে ধান কেনা হচ্ছে না। গুদামে যোগাযোগ করে জানি কয়েকদিন পর কেনা হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকার যেখানে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য আন্তরিক সেখানে অজুহাত দেখিয়ে কৃষকের ধান না কেনা দুঃখজনক। তিনি বলেন, হয়রানি না করে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্বিপক সূত্রধর জানান, জগন্নাথপুর খাদ্য গুদামে আগের চাল ও গম মজুদ থাকায় গুদামে কোন জায়গা নেই তাই আপাতত ধান কেনা বন্ধ রয়েছে। আমরা চাল ও গম অন্যত্র সরিয়ে কৃষকের ধান কেনার চেষ্টা করছি।
রানীগঞ্জ খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা নিপম সুমের বলেন, রানীগঞ্জ গুদামে কৃষকদের লটারীর মাধ্যমে আজ মঙ্গলবার থেকে ধান কেনা আবার শুরু হবে। কৃষকের নাম চূড়ান্ত করতে গিয়ে কয়েকদিন ধান কেনা বন্ধ ছিল।
জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।