হাওরে ঢুকছে পানি খুশি জেলেরা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
টানা বর্ষণ আর ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢলে ক্রমশ জেলার নদ-নদী ভরাট হচ্ছে ও হাওরে পানি ঢুকছে। একই কারণে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ছোট বড় নদী ও হাওরগুলো হচ্ছে জলপূর্ণ। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি নেমে এসেছে উপজেলার মৎস্যজীবীদের মাঝে। হাওরে নতুন পানির সাথে মিলছে দেশি জাতের মাছ। এসব মাছ বাজারে এনে বিক্রি করছেন জেলেরা। এতে অর্থনৈতিক সংকট কাটতে শুরু করেছে দুই সপ্তাহ আগেও বেকার থাকা জেলেদের। তবে, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা শঙ্কাও কাজ করছে জনসাধারণের মনে।
মৎস্যজীবীরা জানান, এতোদিন হাওর-নদীতে পানি ছিলো না। আমরা বেকার ছিলাম। পরিবার নিয়ে কিছুটা অসুবিধায় ছিলাম। এখন পানি এসেছে। প্রতিদিন রাতে, ভোরে মাছ ধরতে যাই। কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। তবে পানি বাড়ায় মনের ভিতরে ভয়ও আছে।
উপজেলার দেখার হাওর, জামখলার হাওর, রাঙ্গামাটি, পাখিমারা, সাংহাই হাওরসহ উপজেলার বড় সবকয়টি হাওরে আশ্রয় কেন্দ্র ও বজ্রনিরোধক দন্ড স্থাপনের দাবি করেছেন মৎসজীবীরা। তারা জানান, কয়েক হাজার কৃষক ও কয়েক হাজার মৎস্যজীবীসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষ হাওরের সাথে সম্পৃক্ত। বৈশাখ মাসে ধান কাটতে গিয়ে, গরু আনতে গিয়ে অনেক কৃষক বজ্রপাতে মারা যান। অনেক মৎস্যজীবী রাতে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে হাওরে মাছ ধরতে যান। নৌকা ছাড়া তাদের আর আশ্রয় নেওয়ার জায়গা থাকে না। এসময় বজ্রপাত হলে অনেকেই মারা যান। ঘূর্ণিঝড় হলে নৌকা ডুবে অনেকের মৃত্যু হয়। এসব হাওরে একটি করে আশ্রয় কেন্দ্র থাকলে অন্ততপক্ষে একটু আশ্রয় নেওয়া যেতো।
দেখার হাওরে জাল দিয়ে দলীয়ভাবে মাছ ধরেন বাবুল মিয়া, সাবির হোসেন, ছাদির মিয়া, আবদুর রশিক। তারা বলেন, কয়েকদিন আগেও আমরা বেকার ছিলাম। এখন হাওরে, নদীতে পানি এসেছে। আমরা প্রতিদিন ভোরে মাছ ধরতে যাচ্ছি। মনে আনন্দ আছে। পরিবার নিয়ে ভালোই আছি ইদানিং।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন ও কাদিপুর গ্রামের আবদুল কাইয়ুম বলেন, আমরা হাওরপাড়ের সন্তান। আমাদের আত্মীয়-স্বজন সবাই প্রতিদিন কৃষি কাজে ও মাছ ধরার কাজে হাওরে যান। বর্ষায় ঘূর্ণিঝড় কিংবা বজ্রপাত হলে আশ্রয় নেওয়ার জায়গা থাকে না। প্রতি হাওরে একটি করে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করলে মানুষ খুব উপকৃত হবে। বজ্রনিরোধক দন্ড স্থাপন করাও জরুরি।
রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা বিধবা আয়েশা বেগম বলেন, গত বছরের বন্যার কথা মনে হলে ঘুম আসে না।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ্ জামান বলেন, যেসব হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে আমরা একাধিক বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সাথে কথা বলেছি। আশা করছি এ অর্থ বছরে নির্মাণ করতে পারবো। আর বজ্রনিরোধক দ- স্থাপন তো ব্যয়বহুল বিষয়। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানাবো। তারা অনুমোদন দিলে এটিও স্থাপন করতে পারবো।