রথীন্দ্রর কেউ রইলো না

স্টাফ রিপোর্টার
‘আমি অখন একলা, আমার কেউ নাই, যায়রাম কাস্টো (সৎকার) করতাম, এরপরে আর আমার সাথে ঘরও থাউকরা (থাকার) কেউ নাই, বৈশাখ মাসে ছোট ছেলে অজয়’এর (আড়াই বছর বয়স) জন্ডিস অইছিল, না বুইজ্জা জ¦রের ওষুধ খাওয়াইছি, পরে ছেলেটা মারা গেছে, বউটা কেউয়ের কথা শুনে না, মেঘ বৃষ্টির মাঝে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও (শাল্লা) লইয়া (নিয়ে) গেছে ছেলে-মেয়েরে, অখন নিজেও মরছে, বাইচ্ছাইনরে মারছে, আমারেও মাইরা গেছে।’
ঢলের পানিতে ভেসে যাওয়া স্ত্রী দুর্লভ রানী দাসকে গ্রামের শ্মশানে নেওয়া হয়েছে সৎকার করতে। তিনিও যাচ্ছিলেন ওখানে। যাওয়ার সময় এভাবেই আক্ষেপ করে এই প্রতিবেদককে কথাগুলো বলছিলেন শাল্লার বিলপুর গ্রামের দিনমজুর রথীন্দ্র দাস।
রথীন্দ্র দাস জানালেন, সোমবার বিকেলে বাড়ি ছিলেন না তিনি। এসে শুনেন তার স্ত্রী দুই সন্তানসহ ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে গেছে। তাদের আসতে বিলম্ব দেখে তিনিও ঘুঙ্গিয়ারগাঁও যান। গিয়ে শুনেন, দুই ছেলে মেয়েসহ এক মা ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। তিনি তখনই বুঝতে পারেন তার স্ত্রী ও সন্তানরাই পানিতে ভেসে গেছে। সারা রাত তিনি ওখানেই ছিলেন। সকালে স্ত্রী দুর্লভ রাণী দাসের লাশ পাওয়া যায় এক কিলোমিটার ভাটির মাউতির বাঁধের পাশে। কিন্তু সন্তানদের লাশ মঙ্গলবার বিকাল (৫ টা পর্যন্ত পাওয়া যায় নি)।
রথীন্দ্র জানালেন, এর আগে গেল বৈশাখ মাসে তার ছোট ছেলে অজয়’র জ-িস হয়েছিল। তিনি গ্রাম্য ডাক্তারের ফার্মেসী থেকে জ¦রের ওষুধ খাওয়ানোর একদিন পরই ওই ছেলেটি মারা যায়। এবার তার অন্য দুই সন্তান জবা রানী দাস (৭) ও বিজয় দাস (৪) এবং স্ত্রীও মারা গেল। এখন তার কেউ-ই নেই।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে হাসপাতালে আসার পথে শাল্লা ব্রীজের পাশের ডুবন্ত সড়কের একাংশ পাড় হবার সময় দুই সন্তানসহ ¯্রােতের তোড়ে ভেসে যান দুর্লভ রানী দাস ও তার দুই শিশু সন্তান। সকালে দুর্লভ রানীর লাশ ভেসে ওঠে। কিন্তু দুই ডুবুরি সারা দিন চেষ্টা করেও দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করতে পারেন নি। বিকালে তারা চলে গেছেন।
তিনি জানান, স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের আশপাশের হাওরে খেওয়াল রাখার জন্য বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ওই পরিবারকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া যেহেতু এরা একেবারেই হতদরিদ্র উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও রথীন্দ্র দাসকে সহায়তা করার চিন্তা করছেন তারা।