ধর্মপাশার স্যানিটেশন ব্যবস্থা নাজুক

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
হাওরাঞ্চল ধর্মপাশার স্যানিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এখানে ৩৩ হাজার ৭৯৫টি পরিবারের কোনো টিউবওয়েল নেই। ল্যাট্রিন নেই এমন পরিবারের সংখ্যা ১ হাজার ১২টি। সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থ্যা ব্র্যাক ওয়াশ কর্মসূচির এক জরিপে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্গম এলাকা বিবেচনা করে জেলার ৯টি উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন খাতে উন্নয়নের লক্ষে ব্র্যাক পাঁচ বছর মেয়াদী দুইটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ধর্মপাশা উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়ন ধর্মপাশা সদর, সেলবরষ, পাইকুরাটি, জয়শ্রী, মধ্যনগর, চামরদানী, বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন এ কর্মসূচির আওতায় পড়েছে। তবে স্যানিটেশনের এমন নাজুক পরিস্থিত নিয়ে উদ্বিগ্ন হাওরবাসী।
ধর্মপাশা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৩৮ হাজার ৪৭৮টি খানার মধ্যে এক জরিপে দেখা যায়, ৯ হাজার ৯৫০টি পরিবার অতি দরিদ্র, ১৯ হাজার ৮৪৫টি পরিবার দরিদ্র, ৮ হাজার ৬৮৩টি পরিবার মধ্যবিত্ত ও ধনী। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৪২টি পরিবার স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ও ৩৪ হাজার ১২৪টি পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করেন এবং    
১ হাজার ১২টি পরিবারের ল্যাট্রিন নেই। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট টিউবওয়েলের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৮৩টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৩২টি টিউবওয়েলের গোড়া পাকা ও ২ হাজার ৫৮১টি টিউবওয়েলের গোড়া কাঁচা এবং ৩৩ হাজার ৭৯৫টি পরিবারের নিজস্ব টিউবওয়েল নেই।
জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সকলের সহযোগিতা থাকলে এ কর্মসূচি কাক্সিক্ষত লক্ষে পৌঁছাতে পারবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। ২০২০ সাল পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে তাই এ ব্যাপারে স্কুল শিক্ষকসহ ইমামদের প্রতি সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানাই।
চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না বলেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মশালা করা যেতে পারে। সর্বোপরি জনসচেতনতাই পারে আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ করে তুলতে।    
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ বলেন, আমি যদি আমার প্রতিবেশীকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাই এবং আমার প্রতিবেশী তাদের প্রতিবেশীকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তাহলে নিরাপদ থাকা সম্ভব। এ ব্যাপারে হতাশ হওয়া যাবে না। মসজিদের ইমাম সাহেবেরা যদি নামাজের আগে এ ব্যাপারে বয়ান করেন তাহলে অনেক ফলপ্রসু হবে। যাদের সাধ্য নেই তাদেরকে স্যানিটেশনের উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা যেতে পারে। পরিবেশ সুন্দর করার জন্য সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে।
উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার বলেন, প্রত্যেকের মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের সদস্যকে দায়িত্বশীল হতে হবে। মসজিদ, মন্দিরের মাধ্যমে ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে সবাইকে নিরাপদ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যদি সকলের মানসিকতার পরিবর্তন করা যায় তাহলে একদিন এ অঞ্চলে শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আসবে বলে আশ রাখি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব খান বলেন, আমাদের ধর্মপাশা উপজেলার শুধুমাত্র ৭টি ইউনিয়নই নয় বরং ১০টি ইউনিয়নকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। এ কর্মসূচির সাথে স্কুল শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজনদের সম্পৃক্ত করতে হবে। উপজেলা পরিষদকে এর সাথে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে যাতে করে বিষয়টি সম্পর্কে তদারকির সুযোগ পাওয়া যায়।