শহীদনূর আহমেদ
জেলার এক মাত্র কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ ১৪ জন শিক্ষকসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক ২৫ টি পদ শূন্য রয়েছে। দুই যুগ ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম। এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ৪ টি ডিপার্টমেন্ট থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
শূন্য পদে নিয়োগের জন্যে কারিগরি শিক্ষার্বোডের দৃষ্টি আর্কষণ করা হলেও ব্যপারটি আমলে নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। মানসম্মত শিক্ষা প্রদান ও পাশের হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে শীঘ্রই শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের তাগিদ তাদের।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজটি ১৯৬৮ সালে স্থাপিত হয়। বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ফার্ম মেশিনারিজ, ইলেকট্রিক্যাল, ফিশ ব্রিদিং ও আরএসসি নামে ৪ টি ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অনুযায়ী আলাদা বিষয় থাকলেও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত সাধারণ বিষয়গুলোও অনুসরণ করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে স্বাভাবিক ভাবেই অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বাড়তি শিক্ষক ও দাপ্তরিক লোকবলের প্রয়োজন প্রতিষ্ঠাটিতে। কিন্তু র্দীঘদিন যাবৎ
প্রতিষ্ঠানটি ভোগছে লোকবল সংকটে। শিক্ষক সংকট চরম হলেও চলতি বছরের জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে চালু হয়েছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। এতে পাঠ্যদানে শিক্ষকের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। ডিপার্টমেন্ট অনুযায়ী শিক্ষক পর্যাপ্ত না থাকায় একই সময়ে একাধিক ক্লাসে যেতে হয় শিক্ষকদের। এতে রীতিমত বিড়ম্বনায় পড়েন শিক্ষক ও শিক্ষাথীরা।
এদিকে দাপ্তরিক কাজের জন্যে অনুমোদিত ১৪ টি পদ থাকলেও বাস্তবে ১১টি পদ শূন্য থাকায় অফিসিয়্যাল কাজ থেকে শুরু করে পিয়নের কাজটিও করতে হচ্ছে শিক্ষকদের। যেমন প্রধান সহকারি পদে ১ টি ইউডি কাম ডাটা প্রসেসর পদে ১টি,অফিস সহকারি পদে ১ টি, এলডি কাম ডাটা প্রসেসর পদে ১টি, লাইব্রেরিয়ান পদে ১টি, স্টোরকীপার পদে ১ টি, ল্যাব বেয়ারার পদে ১টি, অফিস সহায়ক পদে ২টি শূন্য রয়েছে। বর্তমান সময় তথ্য প্রযুক্তির নির্ভর হলেও প্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোন কম্পিউটার অপারেটার। এতে সামান্য চিঠিপত্রগুলো বাইর থেকে টাইপ করতে হয়। কোন পাহারাদার না থাকায় রাতে প্রায় অরক্ষিত থাকে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
রাশেদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের চরম সংকট। অনেক সময় একজন শিক্ষককে একই সময়ে দুইটি ক্লাসে সময় দিতে হয়। রশায়ন ও পদার্থ বিঞ্জানের কোন শিক্ষক নেই। গণিত শিক্ষক এই দুইটি বিষয় দেখেন। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় অনেক দিন কিছু কিছু বিষয়ের ক্লাস থেকে আমরা বঞ্চিত হই।
সুনামগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আজিজুল সিকদার বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে নিজের কর্মসংস্থান করছে। প্রতি বছর শত শত শিক্ষাথী আমাদের এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে। এবছর থেকে আমরা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করেছি। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক ও বিভিন্ন দাপ্তরিক পদে প্রায় ২৫ টি পদ শূন্য রয়েছে। যা মানসম্মত শিক্ষার আশাবাদকে ব্যহত করছে। তাই এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করছি।


