শিক্ষাব্যয় বৃদ্ধি- প্রাথমিক শিক্ষায় বিরূপ হতে পারে

বাংলাদেশ ‘সবার জন্য শিক্ষা’ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। সাক্ষরতার হার শতভাগে উন্নীত করার কাজ চলছে। এরকম অবস্থায় সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের ব্যয় ৪ গুণ বেড়েছে বলে খবর ছাপা হয়েছে। জানা যায়, মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে না পারলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যয় চারগুণ বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে পরীক্ষার ফি, ক্লাস ফি ও বিবিধ ব্যয়ের নামে বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হবে সব শিশু শিক্ষার্থীকে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক সম্প্রতি পরীক্ষার ফি বাড়ানো-সংক্রান্ত এক পরিপত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
তথ্য মতে, সারা দেশের সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। শিক্ষক সংকট, জমি দখল, অবকাঠামো সমস্যাসহ নানা জটিলতায় জর্জরিত দেশের প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেসব সংকট নিরসন করা না গেলেও এবার প্রাথমিকের সব স্তরের বিদ্যালয় ব্যয় চারগুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে প্রথম শ্রেণির একজন পরীক্ষার্থীকে আগে যেখানে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার জন্য ৫ টাকা ফি দিলেই হতো, এখন সেই একই পরীক্ষায় ফি দিতে হবে ২০ টাকা। বছরে তিনটি পরীক্ষার জন্য প্রথম শ্রেণির পরীক্ষার্থীকে মোট গুণতে হবে ৬০ টাকা। একইভাবে অন্য শ্রেণিতেও পরীক্ষার ফি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আগে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে একই হারে পরীক্ষার ফি নেয়া হলেও এবার থেকে এই দুই শ্রেণিতে আলাদা হারে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শিক্ষার ক্ষেত্রে খরচ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভাগ পূর্বকালে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করেন। এর ফলে বাংলার হতদরিদ্র বাঙালি মুসলমান কৃষক প্রজার সন্তানরা প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ লাভ করে। এটা এখনো অব্যাহত আছে। কিন্তু হত দরিদ্ররা এই সুযোগও নিতে পারে না। কারণ শিক্ষা অবৈধতনিক হলেও শিক্ষা উপরণ তো ফ্রি নয়। এ জন্য অনেকে ব্র্যাকের স্কুলে যায় কারণ ব্র্যাকের স্কুলে শিক্ষা উপকরণও ফ্রি দেয়া হয়। আমরা মনে করি প্রাথমিক শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি নয়, বরং শিক্ষা উপকরণ ও ফ্রি দেয়া যায় কিনা সেই চিন্তা ভাবনা করতে হবে।