সমিতির নামে যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলনের জন্য কোয়ারি তৈরি করে বিক্রি করার একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে গতকালের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে। লাউড়েরগড় বালু পাথর সমিতির নামে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে এই বেচা-কেনার কাজটি গত ২ বছর যাবৎ চলে আসছে বলে জানা যায়। এ নিয়ে বাদাঘাট ইউনিয়ন ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বালু-পাথর ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হচ্ছে। প্রভাবশালী সমিতির কর্মকর্তাবৃন্দ নাকি শুধু বাদাঘাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের নিকটই কোয়ারি বিক্রি করছেন। এতে উত্তর বড়দলের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দাবি, তাদের ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের নিকটও কোয়ারি বিক্রি করতে হবে। বর্তমান দ্বন্দ্বে প্রধান কারণ হলো এই দুই ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের সুযোগ পাওয়া না পাওয়া থেকে উদ্ভূত। জানা যায় যাদুকাটা নদীতে কোয়ারি তৈরি করে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু-পাথর উত্তোলন করে থাকেন তথাকথিত এইসব কোয়ারির মালিকরা। ড্রেজার দিয়ে বা নদীর পাড় কেটে বালু আহরণ করা আইনত নিষিদ্ধ, সরকার নির্ধারিত মহালের বাইরে অন্যকোন স্থান থেকেও বালু-পাথর আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষিদ্ধ কাজ করার বিষয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত ব্যবসায়ীরা কিন্তু কিছু বলছেন না। অর্থাৎ একটি ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিয়ে দিলেই সবকিছু যেন জায়েজ হয়ে যাবে। একটি প্রাকৃতিক বিষয় যার সাথে এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত সম্পর্ক প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সেখানে এমন একদেশদর্শী মনোভাব গ্রহণীয় নয়। বালু-পাথর মহাল ইজারা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। কোনভাবেই কোন সমিতি কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি এই কাজ করতে পারেন না। নদীতে কোয়ারি তৈরি করা, বিক্রি করা, ড্রেজার লাগানো সবকিছুই অবৈধ কর্মকা-। এর সাথে জড়িত সকলকেই আইনের আওতায় আনা উচিৎ। আমাদের প্রশ্ন হলো স্থানীয় প্রশাসন এখানে কী করছেন?
যতদূর জানা যায়, বাদাঘাট ও উত্তর বড়দলের ব্যবসায়ীদের এই বিরোধ বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে যেকোন সময় সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হতে পারে। একটি অবৈধ উপায় থেকে যদি শুধু নির্দিষ্ট এলাকার কিছু ব্যক্তি সুবিধা ভোগ করে তখন বঞ্চিতরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেই পারে। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো এর আইনি দিক খতিয়ে অবৈধ কর্মকা-ে নিয়োজিত সকলকেই হটিয়ে দেয়া। প্রশাসনিক শৈথিল্যের কারণে যদি এখানে কোনরূপ দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে এর দায়-দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন এড়াতে পারবেন না।
যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু আহরণের ফলে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও জনবসতিসহ কৃষি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে সংবাদপত্রে বিভিন্ন সময় খবর প্রকাশিত হয়েছে। মাঝে-মধ্যে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাড় কেটে বালুবাহী নৌকা ও ড্রেজার বা বোমা মেশিন আটকের খবরও পাওয়া যায়। কিন্তু এর কোন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এই উদাসীনতা ও শৈথিল্যের কারণে আজ যাদুকাটা তীরবর্তী জনবসতি চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে। আমরা জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই বিষয়টির প্রতি। তারা যেন অনতিবিলম্বে এখানে হস্তক্ষেপ করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করেন। যদি এখানে আহরণযোগ্য বালু-পাথর থেকে থাকে তাহলে বৈধ মহাল হিসেবেই ইজারা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। তাহলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তিও ঘটবে। কোন গোষ্ঠী, ব্যবসায়ী বা মহলের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে গোটা এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা করাই যেন এখানে মুখ্য হয়, এই আমাদের কামনা।

