হাওর পাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থা- জামালগঞ্জে প্রধান শিক্ষকদের স্কুল কামাই

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রধান শিক্ষকই স্কুল কামাই করেন। অজুহাত হিসেবে নিয়মিত উপজেলা সদরে দাফতরিক কাজকে সামনে নিয়ে আসেন তারা। এলাকাবাসী বা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বা দায়িত্বশীলদেরকে ম্যানেজ করে চলছেন দিনের পর দিন। জামালগঞ্জের এমনও প্রধান শিক্ষক আছেন যিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। আবার কোন কোন শিক্ষক সপ্তাহে একদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে পুরো সপ্তাহের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আসেন। এমনও ঘটনা আছে প্রধান শিক্ষক বদলী শিক্ষক রেখে বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। অবশ্য উপজেলা শিক্ষা বিভাগও এমনটিই স্বীকার করেছেন যে, কিছু শিক্ষকের কারণে পুরো    উপজেলা শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্নামের শিকার হচ্ছে। তবে অতীতের চেয়ে অনেকাংশেই উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির কথা জানিয়েছেন শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা।
গেল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের খুজারগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষকের ৩ জন সহকারী শিক্ষক পাঠদান করছেন আর প্রধান শিক্ষক শংকর সমাজপতি সকালেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে উপজেলা সদরে চলে এসেছেন।
একই ভাবে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের মাতারগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ৪ জন শিক্ষকের ৩ জন সহকারী বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণি কক্ষে পাঠদান করছেন আর প্রধান শিক্ষক গোলাম সারোয়ার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি। দুপুর ১ টার দিকে পূর্ব রাজাবাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ জন শিক্ষকের দুজন কষ্ট করে ৩ টি শ্রেণি কক্ষেই পালাক্রমে ক্লাস নিচ্ছেন আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অফিসের কাজের নাম করে উপজেলা সদরেই রয়ে গেছেন।
শুধু এই তিনটি বিদ্যালয় নয় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাওর এলাকার অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাই এমনভাবে স্কুল কামাই কওে থাকেন। প্রধান শিক্ষকদের এমন কর্মকান্ডে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
খুজারগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর সমাজপতি বলেন, আমি উপবৃত্তির কাজে উপজেলা সদরে এসেছিলাম।
মাতারগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সারোয়ার বলেন, আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম। দুপুরে দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদরে এসেছিলাম।
পূর্ব রাজাবাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাধা রঞ্জন তালুকদার বলেন, আমি বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির কাজে উপজেলা সদরে গিয়েছিলাম।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খুজারগাঁও ও মাতারগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে নেই এমন খবর সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তারা কেন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন সে বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ৩ জন প্রধান শিক্ষকই বদলী জনিত কারণে উপজেলা সদরে এসেছিলেন।