জগন্নাথপুরে শান্তিপূর্ণ ভোট ভোটার উপস্থিতি ছিল কম

জগন্নাথপুর অফিস
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সোমবার শান্তিপূর্ণ হলেও ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। সকাল ৯ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত উপজেলার ৭ টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে ৩০ শতাংশ ভোটারও কোন কেন্দ্রেই ভোট প্রদান করেননি। কেউ বলেছেন, ‘প্রথা অনুযায়ী প্রবাসীরা প্রার্থী না থাকায় টাকা উড়েনি, অনেক ভোটারের আগ্রহও এজন্য বাড়েনি।’ আবার কেউ বলেছেন,‘সময় কম ছিল, প্রচারণা ভাল ভাবে চালানো যায়নি।’ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা কর্মীদের মতে,‘প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় তারা কেন্দ্রে যায়নি।’ সব মিলিয়ে ভোট কেন্দ্রগুলোর অবস্থা এমন ছিল কোন কেন্দ্রেই ভোটারদের সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আয়েশে দিন কাটিয়েছেন।
সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে সব বুথ কক্ষ ঘুরে ৫ জন ভোটারও পাওয়া যায়নি।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার একেএম মুখলেছুর রহমান বললেন,‘১৭৩৩ ভোটের মধ্যে মাত্র ৯০ টি ভোট (সকাল সাড়ে ১০ পর্যন্ত) পড়েছে।
সকাল ১০ টা ৫০ মিনিটে একই ইউনিয়নের জমাতউল্লা আটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও গিয়ে একই অবস্থা দেখা গেছে। ঐ কেন্দ্রে অবশ্য       ঐ সময় পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ভোট কাস্ট হয়েছিল।
এই ইউনিয়নের মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১১ টায় গিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের সক্রিয় দেখা যায়। এই কেন্দ্রের ১৭০৬ ভোটের মধ্যে ঐ সময় পর্যন্ত  ৪০০ ভোটার ভোট কাস্ট হয়েছিল।
জগন্নাথপুর পৌর এলাকার সবচেয়ে বেশি ভোটারের কেন্দ্র ইকরছই জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে বেলা পৌনে ১২ টা পর্যন্ত মাত্র ৪০০ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন।
জগন্নাথপুর পৌরসভার স্বরূপ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা পৌনে ১ টা পর্যন্ত ২৯৮৪ জন ভোটারের মধ্যে ৭৮৭ জন ভোটার ভোট দেন।
এই কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়ানো জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুস সামাদ ডন সমর্থক হিসাবে পরিচিত বীরেন্দ্র সুত্রধর বলেন,‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে কর্মীরা অসন্তুষ্ট ছিল। এজন্য দলের একটি অংশের কর্মী সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে আসেননি। এজন্য ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে।’
কেন্দ্রে থাকা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা যুব লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন অবশ্য সময় কম পাওয়ায় প্রচার কম হয়েছে, এজন্য ভোটারদের আগ্রহী করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন।
কেন্দ্রে উপস্থিত আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকমল হোসেন বলেন,‘দলে কোন বিভেদ নেই। সকালে আবহাওয়া খারাপ ছিল ভোটারও কম হয়েছে। বিকালে ভোট দিতে আসবেন ভোটাররা।’
বেলা দেড় টায় জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, ৩৩৫৩ ভোটারের মধ্যে ৮০০ ভোটার ভোট দিয়েছেন।
এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এবিএম ফখরুদ্দিন আহমদ বলেন,‘জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার টাকা পয়সা ছড়ানো হয়েছে কম। কোন প্রার্থী’র কর্মীকেই ভোটার আনতে সক্রিয় বা ভোটার আনার জন্য রিক্সা কিংবা অন্য যানবাহন ব্যবহার করতেও দেখা যায়নি।’
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জাম্মান সন্ধ্যা ৬ টায় বলেছেন,‘সকল কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। কোন প্রার্থীই কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। কেউ কেউ মুখে মুখে দু’একটি কেন্দ্রে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব-বিজিবি পাঠানো হয়েছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৯ জন। এর মধ্যে পুুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ৬শ ৯২ ও মহিলা ভোটার ৮৩ হাজার ৮শ ৭ জন। মোট ৮৭টি ভোট কেন্দ্রের ৪৩২টি বুথে  ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।