আক্ষেপ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন কৃষক-কৃষাণীরা

আবু হানিফ চৌধুরী
প্রধানমন্ত্রীকে না দেখার আক্ষেপ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন হাওর পাড়ের হাজার হাজার কৃষক-কৃষাণী। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনাও হয়নি তাদের। প্রধানমন্ত্রীর আসার খবরে শনিবার থেকেই হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে নৌকাযোগে হাজারো হাওরবাসী শাল্লা উপজেলা সদরে অবস্থান নেন। রবিবার ভোর থেকে পাশ্ববর্তি বিভিন্ন উপজেলা থেকে শাল্লা উপজেলা সদরে আসেন হাজার হাজার কৃষক কৃষাণী। কিন্তু ত্রাণ বিতরণ স্থলে ভিজিএফের কার্ডধারী এবং সরকারদলীয় শতাধিক নেতাকর্মী ছাড়া কাউকেই যেতে দেয়া হয়নি। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ব্যারিকেড দিয়ে       
সর্বসাধারণকে আটকে দেয় আইন শৃংখলা বাহিনী। আটকে দেয়া স্থানে পৌঁছায়নি মাইকের আওয়াজও। সভাস্থল থেকে বেশকিছু দূরে অনেককেই শাল্লা সদরের বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা যায়। অনেকেই আবার প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে ছোটাছুটি করতে থাকেন এখানে ওখানে। সকালে শাল্লা সদরের শাহেদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে শেখ হাসিনা পৌছানো মাত্র মাঠে প্রবেশের সবকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
ছায়ার হাওর পাড়ি দিয়ে আসা রঘুনাথপুর গ্রামের বৃদ্ধা নিরজনী দাস বলেন,‘শেখের বেটি আয়রা হুইননা পতাকালা আইছি। তিনি চাল নেয়ার পর চুলা জ্বলবে।’ চাল নিতে পারলেও শেখ হাসিনাকে দেখার সুযোগ হয়নি নিরজনী দাসের।
আগুয়াই গ্রামের ভূষণ দাস জানান, উনিরে দেখার লাগি অত মানুষ, মানুষের ঠেলাঠেলিতে যাইতে পারি নাই। একশ টেকা নাও ভাড়া দিয়া আইছি। আমরারে দেখার লাগি আইছন ভালা, কিন্তু খত মানুষ না দেইখা ফিইরা গেছে।  
কানকলা গ্রামের নিরোদ দাস জানান, প্রধানমন্ত্রী আমরারে কিতা দিবা হুনবারলাগি আইছি। দেখতাই পারলাম না।
ছাতক থেকে আশা পীর মোহাম্দ আলী মিলন বলেন, রাত সাড়ে তিনটায় রওয়ানা হয়ে অনেক কষ্টে দুর্গম শাল্লায় পৌঁছালেও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীকে না দেখার আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে আমাদেরকে।
ধর্মপাশা উপজেলা থেকে আশা বৃদ্ধ মোবারক মিয়া বলেন, নেত্রী আমরারে দেখতা আইছইন আর তারা (আইনসৃংখলা বাহিনী) আমরারে দেখবার লাগি দিলনা।