তাহিরপুরে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরে ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভিজিএফ কার্ডধারী কৃষকদের কাছ থেকে চাল পরিবহনের খরচের কথা বলে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। রবিবার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চাল বিতরণকালে ভিজিএফ কার্ডধারীদের চাপের মুখে অবশেষে উত্তোলিত টাকা ফেরৎ দিতে বাধ্য হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আজহার আলী।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের কাউকান্দি  গ্রামের ইসমাইল মিয়া, তাজুদ আলী, শান্ত মিয়া, তারা মিয়া, আবুল হোসেন, বড়দল গ্রামের সাঞ্জব উস্তার, রসুলপুর গ্রামের সোনা মিয়া সহ একাধিক গ্রামের শত-শত  ভিজিএফ কার্ডধারী কৃষক অভিযোগ করে বলেন,  ইউপি চেয়ারম্যান আজহার আলী চাল পরিবহন খরচের কথা বলে ইউপি সদস্যদের দিয়ে ইউনিয়নের প্রত্যেক ভিজিডিধারী কৃষকদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১’শ থেকে ২’শ করে টাকা করে আদায় করেন। কিন্তু আমরা জানি পরিবহন খরচ সরকারিভাবে দেয়া হয়।
জানা যায়, কৃষকদের জরুরী ত্রাণ সহায়তায় সরকার তাহিরপুর উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে  ১৫  হাজার কৃষক পরিবারকে নগদ ৫’শ টাকা ও প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত   গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নে ২৬ শ ৫০ জন কৃষক পরিবারকে জরুরী ভিজিএফ সহায়তা দেয়া হয়। ইতিমধ্যে ৩ মাসের জরুরী ত্রাণ সহায়তা মধ্যে ১ম কিস্তির নগদ ৫’শ টাকা ও ৩০ কেজি চাল গত জুন মাসে প্রথম সপ্তাহে দেয়া হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তির  নগদ ৫’শ টাকা ও ৩০ কেজি চাল প্রদানের পূর্বে ভিজিএিফ এর চাল পরিবহন খরচের কথা বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান নিজে ও  ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে টাকা আদায় করেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার চলতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের ভিজিএফ চাল পরিবহনের জন্য প্রতি মেট্রিক টন চালে ২শ ৫০ টাকা দিয়ে থাকে।
দক্ষিন বড়দল ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের কথা বলে টাকা আদায় করা হয়েছিল। এখন তা ফেরত দেয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আজহার আলী বলেন, উত্তোলিত সকল টাকা ফেরৎ দেয়া হয়েছে।
তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি শুনেছি টাকা আদায় করা হয়েছে। চেয়ারম্যানকে বলেছি টাকা ফেরৎ দেয়ার জন্য।