বিশেষ প্রতিনিধি
কোয়ার্টার কিলোমিটারের ভিতরে তিন স্থানে একই সময়ে সমাবেশ। অসংখ্য মাইক লাগানো। সমাবেশ মঞ্চের একেবারে কাছে যারা রয়েছে, তারা ছাড়া কেউ শুনছে না কিছুই। এটি সুনামঞ্জের আওয়ামী লীগের তিন বলয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র শাহাদাত বার্ষিকী পালনের দৃশ্য। জেলা যুবলীগের ব্যানারে একটি এবং পৌর আওয়ামী লীগের (বিকাশ-সাজিদুর অংশ) ব্যানারে একটি। অন্যটি জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে। স্থানে স্থানে পুলিশ মোতায়েন। গণ-মাধ্যম কর্মীরা শোক সমাবেশের সংবাদের চেয়ে শোকের কর্মসূচি নিয়ে কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা – উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে কী-না এই খবর নিচ্ছিলেন একে অপরকে ফোন করে। তবে কোন অঘটন ছাড়াই তিন বলয়ের শোক দিবসের কর্মসূচি পালন হয়েছে। শোক সমাবেশ মঞ্চ থেকে অবশ্য দলীয় প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়েছে।
জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান সেন্টু’র সভাপতিত্বে এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রঞ্জিত চৌধুরী’র রাজনের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে বক্তব্য দেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. আব্দুল করিম, অ্যাড. আক্তারুজ্জামান সেলিম প্রমুখ।
এই সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানকে সুনামগঞ্জ- ৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দাবি করে বলেন, ‘সুনামগঞ্জে দলের ৪ জন সংসদ সদস্য থাকলেও এরা কেউ দল করেন নি। ছাত্রলীগ, যুবলীগ হয়ে আওয়ামী লীগে আসেন নি।’ তিনি দলের ভেতরের হাইব্রিড নেতাদের থেকে দূরে থাকার জন্য নেতা কর্মীদের আহ্বান জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগে থেকে যারা দলে ভাঙন সৃষ্টি করে তারা প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে না, বঙ্গবন্ধ’ুর আদর্শকে যারা বিশ্বাস করে তারা সবাই একমঞ্চে থাকে’।
শহরের উকিলপাড়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন।
দলীয় নেতা অ্যাড. নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন নাহার বেগম শাহানা, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. আলী আমজাদ, অ্যাড. রইছ উদ্দিন, অ্যাড. নান্টু রায়, অ্যাড. হায়দার চৌধুরী লিটন, সুবীর তালুকদার বাপ্টু, করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, মোবারক হোসেন, দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, শাহ্ আবু নাসের, জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক অ্যাড. আসাদুল্লাহ্ সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদির শান্তি মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াকুব বখ্ত বহলুল, ইশতিয়াক শামীম, জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক সেলিম আহমদ, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম মোবিন, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. নাছিরুল হক আফিন্দি প্রমুখ।
ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন বলেন,‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা বিরোধিতা করেছে। যারা ১৫ আগষ্টে জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার পর মিষ্টি বিতরণ করেছে। তাঁদের কারো স্থান আওয়ামী লীগে হবে না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্ন, ত্যাগী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাই থাকবে।’ ব্যারিসটার ইমন ষোড়শ সংশোধনী বাতিল এবং বিচারালয়ের উচ্চাসনে বসে যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ করে তাঁদের সমালোচনা করে বলেন, ‘সুনামগঞ্জের বঙ্গবন্ধু’র সৈনিকরা প্রয়োজনে লং-মার্চ করে ঢাকায় গিয়ে এর প্রতিবাদ জানাবে’।
পৌর মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুলের নেতৃত্বে শোক দিবসের মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সুনামগঞ্জ পৌরসভা চত্বরে বিকাশ কান্তি দে বাবুলের সভাপতিত্বে পৌর আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য পৌর মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. চাঁন মিয়া, জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, তনুজ কান্তি দে প্রমুখ।


