ঈদ বাজার জমেনি জগন্নাথপুরে

জগন্নাথপুর অফিস
পবিত্র ঈদুল আযহার আর মাত্র তিন দিন বাকী। ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর পৌরশহর সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে এখনো জমে উঠেনি ঈদ বাজার। মঙ্গলবার জগন্নাথপুর পৌর শহরের বিভিন্ন বিপণী বিতান ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের সমাগম তুলনামুলক কম। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখনই বেচাকেনার সময়। কিন্তুু খুবই মন্দা বেচাবিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আশায় রয়েছেন শেষ মুহূর্তে হয়তো জমে উঠতে পারে ঈদ বাজার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌর শহরের এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, ঈদকে ঘিরে প্রায় এক কোটি টাকার নতুন মালামাল দোকানে তুলেছেন। বেচাকেনা নিতান্তই কম। গত বছরের চেয়ে এবার ৬০ ভাগ কম বিক্রি হচ্ছে।  
ঈদ বাজারে আসা পৌর শহরের বাসিন্দা ফজুল মিয়া জানান, এবার ঈদ বাজারে যেন কোন উৎসবই নেই। বাচ্চারা বায়না ধরেছে ঈদের নতুন জামা কাপড় কিনে দেয়ার জন্য। তাই মার্কেটে এসেছি। এখনো কিনতে পারিনি। নুতন জামা কাপড়ের দামও একটু বেশি। দেখছি যাচাই বাছাই করে।  
শহরের আসল ঝলক ফ্যাশনের মালিক শ্যামল গোপ জানান, এবারের ঈদে মন্দা বেচাকেনা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়েনি। আশা করছি শেষ মুহূর্তে জমে উঠতে পারে।  
আরেক ব্যবসায়ী নিউ ঝলক ফ্যাশনের মালিক কদ্দুস মিয়া জানান, হাওরের ফলসডুরি আর বন্যায় কারণে এবারের ঈদ বাজারে প্রভাব পড়েছে। গত ঈদের তুলনায় খুবই কম বেচাকিনি হচ্ছে।  
এপেক্স গ্যালারির পরিচালক মির্জা জুবায়ের জামান জানান, ঈদের এক দুই দিন আগে বিক্রি বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করছেন।  
জগন্নাথপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আফসর উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এই ঈদে কুরবানি নিয়ে ব্যস্ত থাকে মানুষ। এবার প্রবাসিদের আর্থিক সহযোগিতা কম থাকায় ঈদ বাজারে প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  
জানা যায়,        
গত এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে উপজেলার সর্ব বৃহৎ নলুয়ার হাওরসহ উপজেলা ছোট বড় সব কটি হাওরের আধা কাঁচা পাকা ধান পানিতে তুলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে দুই দফা বন্যায় অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ে এলাকায়। ফলসডুবির পর পর প্রবাসিদের ব্যাপক সাহায্য সহযোগিতা মিললেও এই ঈদে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।  ফলে প্রভাব পড়েছে ঈদ বাজারে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।