তাহিরপুরে ৫ হাজার হেক্টর আমন জমি তলিয়ে গেছে

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে পাহাড়ী ঢলের পানিতে রোপা আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শনিবার ভোররাতে যাদুকাটা নদী ও সীমান্তের বিভিন্ন ছড়া দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের রোপা আমন ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, উত্তর শ্রীপুর, তাহিরপুর সদর ও বালিজুড়ি ইউনিয়নে ৫ হাজার হেক্টর আমন জমির রোপা আমন ও হালি চারা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের আনোয়ারপুর গ্রামের কৃষক মিলন তালুকদার বলেন, ‘এবার দু’দফা পাহাড়ি ঢলে আমন ধানের     
ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।’
বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, ‘গত আগস্ট মাসের ১১ তারিখে পাহাড়ি ঢলে বালিজুড়ি ইউনিয়নের প্রায় ৫শ’ একর রোপা আমন ও হালি চারার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে আবার রোপণ করার পর শনিবার সকালে সকল রোপা আমন ও হালিচারা আবারও তলিয়ে গেছে। ’
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, ‘ইউনিয়নের খাসতাল, চরগাঁও, আমবাড়ি, বোরখারা, রামেশ্বরপুর, আলীপুর, পৈলনপুর, বারহাল, রজনীলাইন, রাজাই, শান্তিপুর ও চানপুর গ্রামের প্রায় ১ হাজার একর রোপা আমন ধানের জমি পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে নদী ও হাওরের পানির সাথে একাকার হয়ে গেছে।’
বাদাঘাট ইউনিয়নের নাগরপুর গ্রামের কৃষক সুজাত মিয়া বলেন, ‘পাহাড়ী ঢলের পানিতে সোনাপুর, ভূলাখালি, ননাই, মল্লিকপুর, সোহালা ও নাগরপুরের প্রায় এক হাজার একর রোপা আমন জমি পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে।’
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের সেলিম ইকবাল জানান, ‘কলাগাঁও কিত্তার প্রায় ৫০ একর রোপা আমনের জমি পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে।’
একই ইউনিয়নের বাগলী গ্রামের খালেক মোশারফ বলেন, ‘পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে বাগলী এলাকার প্রায় এক হাজার একর রোপা আমনের জমি গোড়াসহ উপড়ে যায়। যা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।’
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন, ‘ইউনিয়নের কলাগাঁও, বাগলী ও সোনাপুর গ্রামের সকল রোপা আমন ও হালিচারা পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে গোড়াসহ উপড়ে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এবারের বন্যায় বোর আমন দু’টাই গেল।’
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘ইউনিয়নের জামালগড় কিত্তার প্রায় ১০ একর রোপা আমন ও হালি চারা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এবার আমন ধানের চারা এ নিয়ে দুইবার পানিতে তলিয়েছে। কৃষকের উপর এবার মার উপর খারার  ঘা হয়েছে।’
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুছ ছালাম বলেন, ‘উপজেলার ৫ হাজার একর জমির আমন ধান বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। কৃষকদের উন্নয়নে সব কিছুই করে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল ও ৫শ’ টাকা গত মে মাস থেকে দেয়া শুরু করেছে। তা আগামী ফসল ওঠার পূর্ব পর্যন্ত  দেয়া হবে।’