বেলা ১১টায়ও বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষক নেই

আবু হানিফ চৌধুরী, দিরাই
শাল্লা উপজেলার হাওর জনপদে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিতি, পরিচালনা পরিষদের অজ্ঞতা আর স্থানীয় শিক্ষা অফিসের উদাসিনতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। সরকার মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বাস্তবায়ন নেই। সোমবার সরেজমিন শাল্লার জাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে দেখা যায়, বেলা ১১টা পেরিয়ে দুপরের কাছাকাছি সময় গড়িয়ে যাচ্ছে তখনও কোন শিক্ষক উপস্থিত নেই। ১০-১২ জন ছাত্র-ছাত্রীকে বারান্দায় বসে দেখভাল করছেন ১৫-১৬বছর বয়সী পাম্মি আক্তার নামের একটি মেয়ে।
আপনি কি স্কুলের শিক্ষক? এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়েটি জানায়, আমাকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য। স্কুলের শিক্ষকরা   না আসা পর্যন্ত আমি বাচ্চাদের পড়াই। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্যাররা চলে আসবেন।
বিদ্যালয়ের পাশে বসবাসকারী হিরা মিয়া জানান, শিক্ষকরা এভাবেই দুপুরের আগে আসেন, ঘন্টা খানেকের মধ্যেই আবার চলে যান। প্রধান শিক্ষক মাসে দুয়েকবার আসেন, এসে খাতায় উপস্থিতি স্বাক্ষর করেই আবার চলে যান।
শিক্ষক হাজিরা খাতায় দেখা যায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর নেই।
এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনাধি তালুকদারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ছুটিতে, অন্যান্য শিক্ষকরা চলে আসতেছেন, নৌকার কারণে বিলম্ব হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে শিক্ষকদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতে হয়, এজন্য নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হতে পারিনা। আমরা শিক্ষকরা মিলে বেতন দিয়ে একটি মেয়েকে রেখেছি বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য! কিছুক্ষণ পর পৌনে বারোটায় স্কুল সীমানায় পা রাখলেন সহকারী শিক্ষক লাকী রানী দাস। এসেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে উপস্থিতির সময় লিখলেন ৯ ঘটিকা।
এসময় উপস্থিত স্থানীয়রা  জানান, উনারা এভাবেই আসেন আর যান, প্রধান শিক্ষক অনাদি তালুকদার মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসেন। বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪৮জন, প্রধান শিক্ষকসহ ৪জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও ৩ হাজার টাকা বেতনের গ্রামের কিশোরী পাম্মি আক্তারই একমাত্র ভরসা, তার মাধ্যমেই চলছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। গ্রামবাসি শিক্ষকদের এসব অনিয়মকে নিয়ম মনে করে কোন খোঁজ নেন না। এমনকি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে সভাপতি হিসেবে স্থানীয় জনৈক ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া থাকলেও বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের ব্যাপারে কোন ধারণা নেই তার। শিক্ষকদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ্আমি দুদিন যাবৎ নবীগঞ্জে। প্রধান শিক্ষক ছুটিতে কিনা আমি জানি না।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত) দ্বীন মোহাম্মদ জানান, প্রধান শিক্ষক ছুটিতে গেলে আমি জানার কথা, আমার জানা মতে উনার কোন ছুটি মঞ্জুর হয়নি। বিষয়টি আমি দেখতেছি। কবে তিনি এ স্কুলটি পরিদর্শনে এসেছিলেন তা মনে করতে পারেন নি।