সু.খবর ডেস্ক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিএনপি। রোববার এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানিয়ে বলেন, ‘দেশে ন্যায়বিচার সম্পূর্ণররূপে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।’
সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এই বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হলো বিশ্ববিদ্যালয়, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও এখন প্রাণ কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ইতোপূর্বে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হত্যার শাস্তি না হওয়ার কারণে দুষ্কৃতকারীরা একের পর এক শিক্ষকদেরকে খুন করে যাচ্ছে।’
শনিবার সকালে রাজশাহী শহরের শালবাগান এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দুষ্কৃতকারীরা অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয় স্বার্থে ও বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করার কারনে আজ দেশব্যাপী খুন, গুম, অপহরণ, গুপ্তহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডেরর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গোটা দেশটাই এখন সহিংস সন্ত্রাসকবলিত। দেশব্যাপী সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম এতো বৃদ্ধি পেয়েছে যে, জনসমাজে মানুষের মৌলিক, মানবিক অধিকার, শান্তি, স্বস্তি এবং জানমালের নিরাপত্তা চরম বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সহিংস তাণ্ডব ও বেআইনি কর্মকাণ্ড এবং বিচারহীনতার কারনে দুস্কৃতকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ভয়ঙ্কর ও আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলি ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হওয়ার পর তা নিয়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর দায় স্বীকারে দেশের মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। কিন্তু এ সমস্ত ঘাতক চক্রদের নির্মূল করতে সরকারের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শুধু নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেরা দায়মুক্তির চেষ্টা করছে।’
ঘরে-বাইরে এমনকি কর্মস্থলেও আজ মানুষের নিরাপত্তা নেই—উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘অপরাধী শনাক্ত এবং শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় দেশে ক্রমাগতভাবে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভোটারবিহীন সরকারের দুষ্কর্মের স্কর্মের কারনেই দুষ্কৃতকারীরা আশকারা পাচ্ছে এবং সেই কারণেই জীবনবিনাশী কর্মকাণ্ডের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলত দেশ এখন ভয়ঙ্কর অরাজকতার মধ্যে।’
আলাদা আরেক বিবৃতিতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সহসভাপতি রুহুল কবির রিজভী অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ‘ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তার কোনোটিতেই সরকার প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে পারেনি।’
- ‘রমজানে বাজার অস্থিতিশীল করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা’
- ফসলহারা কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোই নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের প্রধান দায়িত্ব


