পানি নিষ্কাশনে হাওরে নেমেছেন কৃষকরা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের বৃহৎ হাওরগুলো থেকে নিজ উদ্যোগে পানি নিষ্কাশন করার কাজ শুরু করেছেন কৃষকরা। শুক্রবার দিনভর জেলার জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে পানি নিস্কাশনের জন্য ৬০ জন কৃষক কাজ করেছেন। কৃষকরা বলেছেন,‘বীজ বপনের সময় চলে যাচ্ছে, নদী থেকে হাওরের পানির উচ্চতা দেড় থেকে পৌঁনে দুই হাত ব্যবধানে থাকায় কৃষকরা উৎকন্ঠিত ছিলেন, শুক্রবার হাওরপাড়ের  ৮ গ্রামের কৃষকরা ঐক্যবদ্ধভাবে হাওরের ডালিয়া ও করাটিয়া বাঁধের একটি অংশ কেটে দেওয়ায় হাওরের পানি নামতে শুরু হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যেই হাওরের বেশিরভাগ অংশে বীজ বপন শুরু করা যাবে।’
জেলার দিরাই, জামালগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরি উপজেলা মিলে পাগনার হাওরের অবস্থান। হাওরে জমি রয়েছে ১৫ হাজার হেক্টর। হাওরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পিয়াইন নদীর পানির উচ্চতা হাওর থেকে দেড় থেকে পৌঁনে দুই হাত কম থাকলেও হাওরের ডালিয়া স্লুইসগেটের কপাট বিকল থাকায় গেল বোরো মৌসুমে মাটির শত শত বস্তা ফেলে স্লুইসগেট দিয়ে পানি ঢুকা বন্ধ করা হয়। এই বস্তাগুলো স্লুইসগেটের মুখ থেকে না সরানোয় পানি নিস্কাশন বন্ধ রয়েছে। একইভাবে গজারিয়া স্লুইসগেটের মুখে একটি চলাচলে সড়ক করায় ঐ স্লুইসগেট দিয়ে পানি নামা বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় হাওরপাড়ের মানুষ গত ২ সপ্তাহ ধরে উৎকন্ঠায় ছিলেন। শুক্রবার স্থানীয় ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদারসহ ইউপি সদস্যগণ এবং ইউনিয়নের ফেনারবাঁক, লক্ষীপুর, খামারগাঁও, কাশিপুর, নাজিমনগর ও হঠামারা গ্রামের ৬০ জন কৃষক স্ব-উদ্যোগে গিয়ে ডালিয়া বাঁধের একটি অংশের ৩ ফুট এবং করাটিয়া বাঁধের একটি অংশের ৩ ফুট মাটি কেটে দেন।
হাওরপাড়ের নাজিমনগর গ্রামের কৃষক আবুল বাশার বলেন,‘বীজ বপনের সময় ১০ দিন পার অইগেছে, কেউ খবর নেয় না, আমরা ভয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ কাটতেও যাইনা, হাওর থাকি পিয়াইন নদীর পানি দেড় থেকে – পৌঁনে দুই হাত নিচে, আইজ (আজ) চেয়ারম্যান বাবু আমরার লগে গেছইন (গেছেন) আমরা ৬০ জনের মতো কৃষক সারাদিন বাঁধ কাটছি, আশা করি দুই দিনের মধ্যে পানি নামবো (নামবে), বীজ ফালানির (বপনের) কাজ শুরু করতে পারবো।’
হাওরপাড়ের লক্ষীপুরের শিপন মিয়া বলেন,‘বড় গাঁও (গ্রাম) থাকি ৮ থেকে ১০ জন, ছোট গাঁও থেকে ২ থেকে ৫ জন কৃষক আমরা বাঁধ কাটতে গেছি, সারাদিন বাঁধ কেটেছি, যেভাবে পানি যাচ্ছে, দুই দিন পরে হাওরে বীজ ফালানি (বপন) যাইবো (যাবে)।’
হাওরপাড়ের নাজিমনগরের আব্দুল মজিদ বলেন,‘আমরা দেখছি, এরে তারে কইয়া লাভ নাই, আরো আগে বাঁধ কাইট্টা দিতে পারলে ভাল আছিল, আমরা ভয়ে গেছি না, আজকে চেয়ারম্যান বাবু, রফিক মেম্বারসহ সকলে একসঙ্গে গিয়া বাঁধ কাইট্টা দিছি।’
ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার বলেন,‘আমি সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই বলছিলাম, কেউ বাঁধ কাটতে নামেনি। আজ (শুক্রবার) দিরাই-জামালগঞ্জের মধ্য দিয়ে পিয়াইন নদীর পাড়ের বাঁধের একটি অংশ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এই পানি বৌলাই, জল বৌলাই হয়ে মেঘনা নদী দিয়ে গিয়ে নামবে। ২-৩ দিনের মধ্যে অনেক এলাকায় বীজ বপন করা সম্ভব। একসঙ্গে ২ ফুটের বেশি মাটি কাটা যায়নি। আরেক দফা মাটি কাটলে পুরো হাওরে বীজ বপন করা যাবে।’