আবু হানিফ চৌধুরী, দিরাই
দিরাই ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কলেজ তহবিলের টাকা আত্মসাত ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যক্ষসহ ৬ শিক্ষক স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র কলেজ পরিচালনা কমিটিরি সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দাখিল করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মহিবুর রহমান তালুকদারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিয্ক্তু প্রিন্সিপালকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়ার জন্য তদন্ত কমিটির কাছে লিখিতভাবে দাবি করেছেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা।
জানা যায়, দিরাই ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে কলেজের টাকা আত্মসাত ও স্বেচ্ছাচারিতা এবং পরিকল্পিতভাবে কলেজের শিক্ষার মানকে ধ্বংসের অভিযোগ এনে গত ১৭ সেপ্টেম্বর কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ্য আ ন ম শোয়েব চৌধুরী, ধীমান কীর্তনীয়া ও প্রভাষক কামরুল কবির, সন্দীপন দাস, রনজিৎ কুমার দাস ও নিখিল দাস একটি অভিযোগপত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দাখিল করেন।
এতে তারা
উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ২২জুলাই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে প্রদীপ কুমার দাস দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ ব্যাংকে জমা না করে নিজে আত্মসাত করে আসছেন। কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ব্যয় দেখিয়ে কলেজ ফান্ডের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। ডিগ্রী দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের কেন্দ্র ফি’র প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমা না করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। ব্যক্তিগত কাজে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিল ভাউচারের মাধ্যমে কলেজের টাকা গ্রহণ করছেন। এবিষয়ে সহকারী অধ্যক্ষসহ প্রভাষকরা জানতে চাইলে, তিনি এবিষয়ে কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
পূর্ববর্তী স্টাপ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রতি মাসে স্টাপ কাউন্সিলের সভা আহ্বানের সিদ্ধান্ত থাকার পরও তিনি স্টাপ কাউন্সিলের সভা আহ্বানে অস্বীকার করে আসছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘প্রতিদিন ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। স্টাপ মিটিং বলতে ম্যানুয়েলে কিছুই নেই। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছেন।’
কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন ইকবাল বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিচালনা কমিটির সভা আহ্বান করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


