বিজয় রায়, ছাতক
ছাতকে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ থাকা কংক্রিট স্লীপার কারখানা পরিদর্শন করেছেন চীনের একটি বেসরকারী কোম্পানির প্রকৌশলী টিম। কোম্পানির ৩ সদস্যের একটি প্রকৌশলী প্রতিনিধি দল গত মঙ্গলবার বিকেলে কারখানা এলাকা পরিদর্শন করেন। তবে কারখানাটি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে, নাকি যৌথ মালিকানা পুনঃ চালু করা হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি দায়িত্বপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি দল।
সংশিষ্ট সূত্র জানায়, কারণে অকারণে বারবার কারখানাটি বন্ধ থাকায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি এখন একটি লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কারখানায় উৎপাদিত উন্নত মানের স্লীপার চাহিদা অনুযায়ী সময় মতো উৎপাদন ও সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে দেশের রেললাইনের জন্য বেসরকারি কোম্পানী ও বিদেশ থেকে নিয়মিত স্লীপার কিনতে হচ্ছে।
১৯৮৮ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ছাতক কংক্রিট স্লীপার কারখানার যাত্রা শুরু হয়। কংক্রিট স্লীপার তৈরির প্রধান কাঁচামাল হাইটেনশন স্টিল রড ও এমসিআই ইনসার্ট স্টিল পাত ভারত থেকে আমদানী করা হয়। এছাড়া ছাতক সিমেন্ট কারখানার স্পেশাল ডায়মন্ড ব্রান্ড সিমেন্ট, ভোলাগঞ্জ পাথর ও এখানের উন্নতমানের বালুর উপর নির্ভর করে উচ্চ মানসম্পন্ন কংক্রিট ¯ীপার কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয় এখানে। প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৯ বছরের মধ্যে ভারতীয় হাইটেনশন স্টিল রড ও এমসিআই ইনসার্ট স্টিল পাতসহ মেশিনারিজ সমস্যার কারণে কারখানাটি একাধিকবার বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘরে বসিয়েই বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হচ্ছে রেল বিভাগকে। সরকারি ভাবে পরিচালিত এই স্লীপার কারখানার কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগও রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বর্তমানে বন্ধ থাকা স্লীপার কারখানাটি পুনরায় চালু করার জন্য চায়নার একটি বেসরকারী কোম্পানীর সাথে রেল বিভাগের আলোচনার প্রেক্ষিতেই কোম্পানীর তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কারখানা পরিদর্শনে আসে। তবে কারখানাটি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে নাকি অংশিদারিত্ব ভিত্তিতে চালু করা হচ্ছে এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে পারছে।
অপর একটি সূত্র জানায়, সিলেট-আখাউড়া, আখাউড়া-লাকসাম, দোহাজারী-কক্সবাজার, পদ্মা লিংক এর জয়দেবপুর-ইশ্বরদী ও ঢাকা-চট্রগ্রাম ডবল রেললাইনে ব্যবহারের জন্য প্রচুর পরিমাণে কংক্রিট স্লীপার প্রয়োজন রয়েছে। যা এ কারখানা দ্বারা সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। কারখানায় যুগপোযোগী উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে বড় পরিসরে স্লীপার উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের এসব রেলওয়ে লাইনে সরবরাহের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই চায়না প্রতিনিধি দলের এখানে আগমন।
স্লীপার কারখানায় দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান জাবির জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চীনা প্রকৌশলী মি. জিউআন, মি. জিয়াংহাই, মি. ইয়াং কে নিয়ে কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন।
চায়না কোম্পানীর বাংলাদেশের কনসালেন্ট মাহবুর হক বকশী কারখানা পরিদর্শনের কথা স্বীকার করে জানান, কারখানায় আরো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও চাহিদা অনুযায়ী স্লীপার উৎপাদন ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল লাইনে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। যে কারণে চায়না প্রতিনিধি দল এখানে এসেছেন।
কারখানার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজামান জানান, কারখানাটি বিক্রি হবে না যৌথ মালিকানায় যাবে এই বিষয়ে এখনই কোন মন্তব্য করা যাচ্ছে না। কারখানার সার্বিক অবস্থা দেখতেই চায়নার একটি বেসরকারি কোম্পানীর প্রতিনিধিদল এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কারখানার উপর সমীক্ষা শেষে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
- বিজয়ের মাসের প্রথম দিন আজ- জেলা প্রশাসনের মাসব্যাপী কর্মসূচি
- ধর্মপাশায় এক পল্লী চিকিৎসককে অপহরণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১


