হালি ও পাগনার হাওরে বাঁধের সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব

বিশেষ প্রতিনিধি
জমির মালিক এক উপজেলার বাসিন্দাগণ, হাওররক্ষা বাঁধের পিআইসিতে (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে থাকেন) আরেক উপজেলার বাসিন্দারা। এই নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ও জামালগঞ্জের সাচনাবাজার ইউনিয়নবাসীর মধ্যে। জামালগঞ্জের হালির হাওরপাড়ের কৃষকদের দাবি কালাগাঙয়ের ও রৌয়াইলের বাঁধের পিআইসিতে সুবিধাভোগী কৃষকদেরই রাখতে হবে। না হয় হাওরের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি হুমকির মধ্যেই থাকবে। পাউবো কর্মকর্তারা জানালেন, এধরনের সমস্যা জামালগঞ্জের আরেকটি বৃহৎ হাওর পাগনায়ও রয়েছে। এই বছর দুই উপজেলার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে পিআইসিতে সুবিধাভোগিদের যুক্ত করার চেষ্টা করবেন তারা।
বিগত বছরে পাগনার হাওরের যে বাঁধটি ভেঙে হাওর ডুবেছে, সেই বাঁধের পিআইসি সদস্যরা ছিলেন দিরাই উপজেলার বাসিন্দা। পাগনার হাওরের সুবিধাভোগী কৃষকদের অভিযোগ বাঁধ ভেঙে ফসল তলানোর সময় পিআইসির কাউকেই বাঁধে দেখা যায়নি।
পাগনার হাওরপাড়ের গজারিয়া গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন,‘পিয়াইন নদী দিরাইয়ের রফিনগরে পড়লেও, পাগনার হাওরে রফিনগর বা দিরাইয়ের কোন কৃষকের জমি নেই। প্রতিবছরই দিরাইয়ের চেয়ারম্যান মেম্বাররা দায়সারাভাবে বাঁধের কাজ করে আমাদেরকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। এবার যেন সেটি না হয়, সেই দাবি জানাচ্ছি আমরা।’
হালির হাওরপাড়ের চাঁনপুরের বাসিন্দা সেনাপতি দাস বলেন,‘হালির হাওরের সকল জমিই জামালগঞ্জের কৃষকদের। অথচ প্রতিবছর বাঁধের কাজ করে বিশ্বম্ভরপুরের পিআইসির লোকজন, হাওরে জমি তাঁদের নিজেদের বা বিশ্বম্ভরপুরের মেম্বার-চেয়ারম্যানদের না হওয়ায় তাঁরা দুর্বল বাঁধ দেয়, পানি আসলেই জামালগঞ্জের চাঁনপুর, ভরতপুর, আক্তাপাড়া, হালিরপুরের মানুষকে এসে বাঁধ রক্ষার কাজ করতে হয়। এবার যেহেতু পিআইসি নীতিমালায় উল্লেখ আছে সুবিধাভোগীদের দিয়ে পিআইসি করা, এজন্য আমরা দাবি করছি জামালগঞ্জের কৃষকদের দিয়ে যেন বাঁধের পিআইসি করা হয়।’
একই দাবি জানালেন-হাওরপাড়ের কুকরাপসি গ্রামের আমির আলী, আজহার আলী ও নিতাইপুরের বিধান দাস।DSC_0211
জামালগঞ্জের সাচনাবাজার ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন,‘বিশ্বম্ভরপুরের আবুয়া নদীর পাড়ে কালাগাঙয়ের বাঁধে আবুয়া নদী থেকেই মাটি আনা হয়। নদীর মালিক সরকার। অন্যদিকে হালির হাওরের সকল জমির মালিক জামালগঞ্জের কৃষকরা। কালাগাঙ বা রৌয়াইলের বাঁধ ভাঙলে বৃহৎ হালির হাওর এবং জামালগঞ্জের ছোট হাওরের মধ্যে রৌয়ার হাওর, গোপালপুরের হাওরসহ ছোট ছোট কয়েকটি হাওর ডুবে যায়। এই অবস্থায় বাঁধের পিআইসিতে এবার হালির হাওরে জমি যাদের রয়েছে, তাঁদেরকে যুক্ত রাখলে ভাল হয়।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহ্পুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মুনসুর নূর চৌধুরী অবশ্য বলেছেন,‘বাঁধের উপকারভোগী জামালগঞ্জের হলেও বাঁধ এবং বাঁধের মাটি তুলতে হয় বিশ্বম্ভরপুরের সীমানা থেকে। সুতরাং বিশ্বম্ভরপুরের লোকজনকে দিয়েই পিআইসি করতে হবে।’
সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন,‘টেকসই কাজ করার জন্য উপজেলা কমিটির সভায় আমাদের প্রস্তাব ছিল সুবিধাভোগীদের দিয়ে পিআইসি গঠন করা, এই নিয়ে যাদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে, তাঁদের দুই পক্ষকে ডেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। জেলা কমিটি সেইভাবে সিদ্ধান্ত নিলেই ভাল হয়।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘সুবিধাভোগীদের দিয়ে পিআইসি করলেই ভাল হয়। এবার নীতিমালায় সেভাবেই উল্লেখ রয়েছে। আমরা জেলা কমিটিতে কালাগাঙয়ের বাঁধ, রৌয়াইলের বাঁধ এবং পিয়াইন নদীর পাড়ের পাগনার হাওরের বাঁধ নিয়ে কথা বলবো।’