স্মার্টকার্ড বিতরণ পর্বটি আনন্দদায়ক হোক

সদর উপজেলায় স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্য়ক্রমের উদ্বোধন হয়েছে গত শুক্রবার। দেশের নাগরিকদের জন্য এই জাতীয় পরিচয়পত্রটি সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে নাগরিকরা বেশ কিছু নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা খুব কম বলেই অনুমিত হয়। তাছাড়া নির্দিষ্ট এলাকার জন্য বিতরণের নিমিত্ত একটি মাত্র দিন নির্ধারিত থাকায় অনেকেই নির্ধারিত তারিখে কার্ডটি সংগ্রহ করতে পারবেন না। স্মার্টকার্ডের জন্য দুইবার লাইতে দাঁড়াতে হচ্ছে। প্রথমবার চোখ ও আঙুলের ছাপ দিতে হয়। পরে আবার কার্ড সংগ্রহের জন্য লাইন দিতে হয়। বিতরণকেন্দ্রগুলোতে স্মার্টকার্ড সংগ্রহকারীদের বড় ভিড় তৈরি হয়। এই ভিড় দেখে বহু মানুষই কার্ড না নিয়ে ফেরত চলে আসেন। যদিও কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছেন যে, আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণের তারিখ শেষ হওয়ার পর যেকোন নাগরিক নির্বাচন অফিস থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে এই বিতরণ কার্যক্রমকে আরও কীভাবে সহজ ও নাগরিকবান্ধব করা যায় সেটি চিন্তা করার অবকাশ রয়েছে। আমরা নির্বাচন অফিসকে এ কাজে উদ্ভাবনীমূলক সৃজনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।
মানুষ এখন নিজেদের পেশাগত কারণে ব্যস্ততার মধ্যে কাটান। অনেকে চাকুরি বা ব্যবসা কিংবা অন্যবিধ উদ্দেশ্যে এলাকার বাইরে অবস্থান করেন। বর্তমানে আমন ধান কাটা ও বোরো চাষাবাদের ভর মৌসুম হওয়ায় কৃষিজীবী সম্প্রদায়ের মানুষের একটি বড় অংশের শ্বাস ফেলার ফুরসৎ নেই। এইসব মানুষ নির্বাচন অফিস কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে বিতরণকেন্দ্র স্বভাবতই উপস্থিত হতে পারবেন না। এর বাইরে বৃদ্ধ ও মহিলাদের সারাদিন বিতরণকেন্দ্রে অপেক্ষা করে ও লাইনে দাঁড়িয়ে কার্ড সংগ্রহ করা কষ্টকর কাজও বটে। এমন অবস্থায় স্মার্টকার্ড বিতরণের কাজটি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড কাউন্সিরদের তত্ত্বাবধানে দিয়ে করানো যায় কিনা সেটি ভেবে দেখা যেতে পারে। কাউন্সিলরগণ এলাকার নির্দিষ্ট স্থানে ক্যাম্প বানিয়ে কয়েকদিন সময় দিয়ে বিতরণের কাজটি শেষ করবেন। কর্মব্যস্ততার কারণে যাতে কার্ড পেতে কাউকে বিড়ম্বনায় পড়তে না হয় সেজন্য রাতের বেলায়ও কার্ড বিতরণের সুযোগ রাখতে হবে। আমরা জানি নির্বাচন অফিসগুলোর জনবল স্বল্পতা রয়েছে। এ কারণে তাদের অফিসের মাধ্যমে কার্ড পেতে হলে মানুষকে অহেতুক বিড়ম্বনায় পড়তে হবে। আঙুল ও চোখের ছাপ নিতে যে প্রাযুক্তিক সহায়তার প্রয়োজন হবে সেগুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে কাউন্সিলরদের মধ্যে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন লোকবলসহ দিয়ে দিলে এবং বিতরণের মেয়াদকাল একটু বেশি রাখলে (এটি সপ্তাহ বা পক্ষকাল ব্যাপী হতে পারে) সকলের জন্য সুবিধা হয়।
একটি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের অধিকারী হওয়া যেকোন নাগরিকের জন্য গৌরবের বিষয়। এই কার্ড বিতরণের একেবারে প্রথম ধাপে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নাগরিকরা এই সুযোগ পাচ্ছেন, এটি এলাকাবাসীর জন্য আনন্দদায়ক বটে। কার্ড সংগ্রহের কাজটি যাতে বিরক্তিকর হওয়ার পরিবর্তে আনন্দদায়ক ও উৎসবমুখর হয় সেটি নিশ্চিত করা গেলে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি সার্থকতা পাবে। আশা করি নির্বাচন কমিশন তথা স্থানীয় নির্বাচন অফিসটি বিষয়টি কার্যকরভাবে বিবেচনা করবেন। সিনিয়র সিটিজেনদের কার্ড পাওয়ার বিষয়টি একেবারেই নির্ঝঞ্ঝাট করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতিশয় জরুরি।