সুদখোর বাবলুর বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ দেখতে চাই

পৃথিবীর আদিমতম ঘৃণিত পেশা সুদে লগ্নি খাটানো এই আধুনিক কালেও আগের মতো কদাকার চেহারা নিয়ে টিকে আছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারকরা আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষাক্ত বীজের মত ঢুকে আছে। এই সুদখোরদের দ্বারা তৈরি হৃদয়বিদারক করুণ গল্প যেকোন জনপদে কান পাতলেই অঢেল শোনা যাবে, চোখ মেললেই দেখা যাবে। সুদখোরের লোভের কবলে পড়ে কত মানুষ ভিটে ও পেশা ছাড়া হয়েছেন তার হিসাব মিলানো সত্যিকার অর্থেই কঠিন। ব্যক্তি সুদখোররা উচ্চ সুদে লগ্নি করে থাকে। এদের সুদের হার প্রাতিষ্ঠানিক সুদ হার থেকে ১০ গুণ ১৫ গুণ বা এর চাইতেও বেশি। এরা আবার সুদের উপর সুদ কষেন, সুনামগঞ্জের জনপ্রিয় নাট্যকার প্রয়াত গোলাম রাব্বি এই প্রকারের সুদকে ‘চক্রবর্তী সুদ’ নামে সকলের সামনে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর ‘সুমতির মুখে সেফটিপিন’ নাটকের বেহায়া নির্দয় সমাজবিরোধী সুদখোর মনসাদরা যে এখনও কতোটা দাপুটে অবস্থায় রয়েছে তাহিরপুরের শিমুলতলা গরিয়াবাজ গ্রামের শাহীন নামের এক যুবক প্রাণ দিয়ে সেটি আবারও প্রমাণ করলেন। এই শাহীনরা হলো একালের কাদম্বিনী। যাদেরকে মরিয়া প্রমাণ করিতে হয় যে আসলেই সে মরিয়াছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি মামলার সূত্রে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, শাহীন নামের ওই যুবক উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বারহাল গ্রামের জনৈক সুদখোর বাবলুর কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করেছিলেন। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য বাবলু শাহীনকে আটকে করে নির্যাতন করে। নির্যাতনের ফলে শাহীনের মৃত্যু ঘটলে ঘটনাটির মোড় ঘুরিয়ে দিতে বাবলু মৃত শাহীনের মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বাবলুর বাড়ি থেকে শাহীনের মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে, এই মোটরসাইকেলসহ শাহীনকে সুদখোর বাবলু আটক করেছিল। এই ঘটনায় নিহতের মা বাবলুসহ চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। শাহীনের মৃত্যু হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। অর্থাৎ ঘটনার পর ইতোমধ্যে পাঁচ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত কাউকে পুলিশ কর্তৃক আটকের খবর পাওয়া যায়নি।
তাহিরপুরের নিভৃত পল্লীর বাবলু নামক হৃদয়হীন সুদখোরের নিকট টাকার চাইতে বড় কিছু আর নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগমতে সে দরিদ্র শ্রেণির লোকজনকে উচ্চ সুদে টাকা লগ্নি করত এবং সুদসমেত পাওনা টাকা আদায়ের জন্য নানা কায়দায় অত্যাচার নির্যাতন চালাত। বাবলু কেন, সকল সুদখোরই এমন চশমখোর বটে। ধর্মমতে বা দেশের প্রচলিত আইনমতে এরূপ সুদ খাওয়া নিষিদ্ধ কাজ রূপে বিবেচিত হয়। অথচ সমাজে এরূপ সুদের কারবার প্রকাশ্যেই চলে। এর বিরুদ্ধে নেই রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ কিংবা সামাজিক প্রতিকার। ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্যেও বহু সুদখোর সমাজে ভাল ধার্মিকের তকমা গায়ে লাগিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়ান। এরা আবার সমাজে নমস্যও হয়ে থাকেন। এমন সুদখোরতোষণ সমাজে নিরীহ অসহায় শাহীনরা যে বেঘোরে প্রাণ হারাবেন তা আর আশ্চর্য কি?
তাহিরপুরের বাবলুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই এই হত্যাকারীর বিরুদ্ধে আইনের চাকা ঠিকঠাকভাবে সচল থাকবে। কারণ একে তো সুদের অত্যাচার তার উপর হত্যাকা-, এমন অপরাধীর নিষ্কৃতি মানে সমাজটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়া। এমন অরাজক সমাজ বাস্তবতা নিশ্চয়ই কেউ চান না। তাই আমরা হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সুদখোর বাবলুর বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ দেখতে চাই।