লম্পট ও হত্যাকারী ইয়াহিয়া সর্দারকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক

মানুষ নিজেকে সবচাইতে নিরাপদ মনে করে নিজের বাসাবাড়ি ও মায়ের কোলকে। কিন্তু নির্ভরতার এই দুইটি আশ্রয় চরম অনিরাপদ হয়ে গিয়েছিল দিরাই পৌর শহরের স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার মুন্নীর জীবনে। ইয়াহিয়া সর্দার নামের এক বখাটে শনিবার মুন্নীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারই বাড়িতে ঘরের ভিতরে ঢুকে। মুন্নী মা মা বলে চিৎকার করতে করতে ছুটে চলে যেতে যায় মায়ের আঁচলের নীচে। কিন্তু মায়ের আঁচল তলায় সে পৌঁছেছে ঠিক কিন্তু ততক্ষণে তার জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। সে শুধু মায়ের কাছে হত্যাকারীর নামটি বলে যেতে পেরেছে। সংবাদমাধ্যমসূত্রে জানা যায় এই বখাটে ইয়াহিয়া এর আগেও মুন্নীর জীবনে নানাভাবে উৎপাত করছিল। এসব ঘটনা নিয়ে র‌্যাব তাকে আটকও করেছিল। র‌্যাব পরে অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করে এবং মুচলেকা নিয়ে ইয়াহিয়াকে ছেড়েছে। কিন্তু এসব কোন কাজেই আসল না। মুন্নীর জীবনে সে জল্লাদের মতোই আবির্ভূত হয়েছিল। এই বখাটে ইয়াহিয়া মুন্নীর জন্য এতোটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে কারণে স্কুল ছেড়ে দিতে হয় মুন্নীকে বছরখানেক আগেই। এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় মুন্নিকে স্কুলে যাওয়া আসা সারতে হয়েছে মায়ের পাহারাদারিতে। কিন্তু সব পাহারাদারি ও সতর্কতাকে ফাঁকি দিয়ে মুন্নীকে জীবন দিতে হলো ইয়াহিয়ার হাতেই। এমন নৃশংস হত্যাকা-ে সকলেই হতবাক হয়ে আছেন। এমন নিষ্ঠুরতা এমন বর্বরতা; যা কোন সভ্য সমাজে কল্পনাতীত, তাই ঘটে গেল দিরাই উপজেলা সদরের একটি বাড়িতে।
এই হত্যাকা-ের ঘটনায় মামলা হয়েছে, হয়তো প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু আসামী ধরাও পড়বে। বিচারের প্রাথমিক ধাপগুলো ডিঙাবে। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দোষীর শাস্তি নিশ্চিত করতে পারবে কিনা তা এখনই বলা দুষ্কর বটে। কারণ অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি যে, এরকম ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া নানা কারনে থমকে যায়। মাঝখানে পাহাড়ের মতো এসে দাঁড়ায় নানা বিপত্তি। কিন্তু সভ্য সমাজের মানুষ হিসেবে আমরা বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষীর শাস্তি কামনা ছাড়া আর কিছু চাইতে পারি না। মুন্নী নামক এই মেয়েটিকে নৃশংসভাবে যারা হত্যা করেছে, দ্রততম সময়ে তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে শাস্তি কার্যকর করা হোক এই আমাদের কামনা।
মুন্নী হত্যাকা-ের ঘটনায় আমাদের অস্থির সমাজ বাস্তবতার যে চিত্র ফুটে উঠে সে বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি। নতুবা এই সমাজ মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে। প্রাপ্ত বয়স্ক একটি ছেলে ও একটি মেয়ের মধ্যে হৃদয়ঘটিত ব্যাপার ডানা মেলা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে সেটি হয় উভয়ের সম্মতিতে।  এখানে যে চিত্র আমরা দেখতে পাই সেটি হলো ইয়াহিয়া নামক যুবকটি একতরফাভাবে মুন্নীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এটিকে কখনও হৃদয়ঘটিত ব্যাপার মনে করার কারণ নেই। এটি ¯্রফে ইয়াহিয়ার লাম্পট্যপনার পরিচায়ক। লাম্পট্য তাকে নৃশংস হত্যাকারীতে পরিণত করেছে। অভিভাবকদের নিজেদের সন্তুান সন্ততিদের বিষয়ে সজাগ ও সচেতন না হলে যেকোন পরিবারে এরকম লম্পট ইয়াহিয়ার দেখা মিলতে পারে। তাই হত্যাকারী ইয়াহিয়া সর্দারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি আমাদের সমাজ আরও অনেক বেশি সচেতন ও মানবিক হয়ে উঠুক এইটুকুই আমাদের কামনা।