বারো মাস কিভাবে চলবে সেই দুশ্চিন্তা কৃষকদের

ইয়াকুব শাহরিয়ার, পাগলাবাজার
কথা ছিল গোলায় ধান তুলার কাজে ব্যস্ত থাকবেন কৃষকরা। এমনটাই হয় প্রতি বছর। বোরো ধান ঘরে তুলে পিঠা পুলি আর জৈষ্ঠ্যের ফলের উৎসবে মেতে উঠার যে স্বপ্ন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কৃষকরা দেখেছিলেন, শিলাবৃষ্টি আর অতি বৃষ্টি তাদের সেই স্বপ্নের মৃত্যু ঘটায় এবং স্বপ্ন মৃত্যুর কফিনে শেষ পেরেক টুঁকে দেয় বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে ঢুকা ধাননাশী পানি। সেই পানিতে ডুবে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শত শত কৃষকের ধান।
সে ধান তুলে তাঁরা তাঁদের পরিবারের সারা বছরের অন্ন যোগান, হাত খরচ যোগান এমনকি সংসার চালানোর প্রধান পূঁজি মনে করেন সেই ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বছরের বারো মাস কিভাবে কাটবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।
এক ফসলি জমি নির্ভর এসব প্রান্তিক কৃষক মধ্যসত্ত্ব ভোগীদের কাছ থেকে টাকা ধার করে এনে যে জমি করেছিলেন তা হারিয়ে তাঁরা এখন দিশেহারা। একে তো বছর কিভাবে চলবে সেই চিন্তা তাঁরা ভাবতে ভাবতে গোপনে বা প্রকাশ্যে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন পাথারিয়া, নোয়াখালি, জয়কলস, আস্তমা, আসামপুর, পাগলা, দরগাপাশা, হোসেনপুরসহ দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শত শত কৃষকরা। সুদে টাকা ধার করে এনে জমিতে লগ্নি দিয়েছেন। সব ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখন তারা নিঃস্ব।
জয়কলস ইউনিয়নের হাসনাবাজ গ্রামের কৃষক মনিক মিয়া বলেন, আমার আর কিছুই অবশিষ্ট নাই। যা কিছু ছিল তা দিয়ে জমি চাষ করেছি। ফলন ভাল হয়েছে কিন্তু পানিতে সব ডুবে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব।
শিমুলবাঁক ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের ছালেক মিয়া বলেন,‘একটা ধানও ঘরে তুলতে পারি নি। শিলাবৃষ্টি, বানের পানি আর শ্রমিকের অভাবে আমার সব ফসল নষ্ট হয়েছে।’
পশ্চিম পাগলার খোয়াজ আলী বলেন,‘ধানের  ভালো ফলন হয়েছিল। আমার প্রায় ২ হাল জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ১২ সদস্যের পরিবার নিয়ে সারা বছর কিভাবে চলবো তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছি।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন,‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করছি, যদি সরকারি কোন অনুদান আসে আমরা কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেবো।’