টিপু সুলতান, দিরাই
দিরাইয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্রের নির্দেশনার তোয়াক্কা করছেন না সহকারি সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। মুদ্রিত খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ প্রদানে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে দ্বিগুন অর্থ আদায় করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভূমি মালিকদের অভিযোগ চলমান ভূমি জরিপে শেষ ধাপে এসেও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। মুদ্রিত খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ করতে গিয়ে ২৫০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের। অফিসের পেশকার ও খারিজ সহকারি এসব টাকা আদায় করছেন।
দিরাই উপজেলা সহকারি সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পেশকার সুরতি বিকাশ চাকমা জানান, এখন পর্যন্ত তারা ১৩ টি মৌজার মুদ্রিত খতিয়ান প্রদান করেছেন। সরকারি ফি ১০০ টাকার সাথে স্ট্যাম্প ফি বাবদ ২০ টাকা নিয়েই তারা প্রতিটি মুদ্রিত খতিয়ান এবং ৫২০ টাকায় মুদ্রিত মৌজা ম্যাপ প্রদান করছেন। এর বাইরে কোনো ভূমি মালিক খুশি হয়ে বখশিশ দিলে কেবল সেটাই তারা নিচ্ছেন। তিনি অবশ্য দাবি করেন, সিলেট জোনাল অফিসের চূড়ান্ত প্রকাশনা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নগদ সেলামী দিয়ে মুদ্রিত ম্যাপ ও খতিয়ান আনতে হয়। ভূমি
মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া বখশিশ থেকেই তারা এটা মিটিয়ে থাকেন। খারিজ সহকারি মংশু অং মারমা বলেন, তিনি কিছু দিন হয় এখানে এসেছেন। টাকা আদায়ের সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
শুকুরনগর মৌজার ঘাগটিয়া গ্রমের শহিদ মিয়া বলেন, একটি খতিয়ানের জন্য ২৫০ টাকা দিয়েছি। বাড়ি গিয়ে দেখি ডিপি নম্বার নেই। এখন ডিপি নম্বার খুঁজে বের করার জন্য আরও টাকা চাচ্ছে। মাতার গাঁও মৌজার ভূমি মালিক অপু মিয়া বলেন, আমার অন্তত ১০ টি খতিয়ানে জমি রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। উপজেলার পশ্চিম দৌলতপুর, কালধর, শালিয়ার গাঁও, মাতারগাও, রাজাবাদ, দিরাই, নগদীপুর, হোসেনপুর, সোয়াতিওর, ভরারগাও, মাটিয়াপুর, সিংহনাথ ও দাউদপুর মৌজার অন্তত অর্ধশতাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, অফিসের পেশকার বাবু অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক। স্থানীয় কিছু দালাল শ্রেণীর লোকজনকে ম্যানেজ করে মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ান প্রদানে আড়াই’শ থেকে সাড়ে সাত’শ টাকা নিয়েছেন। সহকারি সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা কমলেন্দু চৌধুরী বলেন, ভূমি জরিপের পর চূড়ান্ত কাগজপত্র হাতে পেয়ে যে কেউ বখশিশ দিতেই পারে, বখশিশ নেওয়া দোষের কিছু নয়। তবে বাড়তি টাকা আদায়ের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত ১৯/০৮/২০১৫ ইং তারিখে ৩১.০০.০০০০.০০৪৯.০০৭.০০৫.১৩-৩০৪ নং স্মারকে সিনিয়র সচিব ভূমি মন্ত্রণালয় জরিপ শাখা থেকে জারিকৃত এক পরিপত্রে জানানো হয়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর কতৃক মুদ্রিত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজস্ব ইউনিটের ম্যাপ ও খতিয়ানের মূল্য সংক্রন্ত ইতিপূর্বে জারিকৃত সকল পরিপত্র বাতিল করে মুদ্রিত খতিয়ান ফি ১০০ টাকা, মৌজা ম্যাপ ৫০০ টাকা, থানা ম্যাপ ৭০০ টাকা, জেলা ম্যাপ ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
- শাহারপাড়ায় নৌকার প্রার্থীকে প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ
- বিশ্বম্ভরপুরের ২২ বাজারের ১৯ টিই লুটেরাদের দখলে- সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে


