বিবিসিসিআইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গালা ডিনার ও নতুন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

লন্ডন প্রতিনিধি
বৃটেনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী ব্যবাসায়ীদের   সংগঠন ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (বিবিসিসিআই) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গালা ডিনার গত ২৪ মে মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের অ্যাট্রিয়াম ব্যানকুইটিং হলো। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে  বিবিসিসিআই-এর ডাইরেক্টর হিসেবে যোগ দেয়া ১৪ জন নতুন ডাইরেক্টরকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় গত নব নির্বাচিত পরিচালনা কমিটির সদস্যদের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিশেষ বাণিজ্যিক দূত বেথনালগ্রীন ও বো আসনের এমপি রুশনারা আলী। রুশনারা আলী এমপি বাংলাদেশ বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এটাই ছিল বাংলাদেশি কোনো সংগঠনের অনুষ্ঠানে প্রথম অংশগ্রহণ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম এ হান্নান এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্সিয়াল কাউন্সিলর শরিফা খান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইউকে এন্ড আয়ারল্যান্ডের  কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলামসহ বিবিসিসিআই-এর মেম্বার, ডাইরেক্টর, কমিউনিটি নেতা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
 অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিবিসিসিআই-এর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মাতাব চৌধুরী বলেন, গত দুই বছর তিনি বিবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগের দুই বছর তিনি ছিলেন সংগঠনের ডাইরেক্টর জেনারেল। তিনি বলেন, নতুনদের হাতে বিবিসিসিআইয়ের হাল তুলে দিতে তিনি গত নির্বাচনে প্রার্থী হননি। তিনি চেয়েছেন, নতুন মেধা ও নতুন নেতৃত্ব বিবিসিসিআইয়ের হাল ধরে সংগঠনটিকে নতুন এক দিগন্তের পথে নিয়ে যাক।
মাতাব চৌধুরী বলেন, গত দুই বছরে বিবিসিসিআইয়ের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য তিনি সংগঠনের মেম্বারশীফ সেক্রেটারি মনির আহমদের ভূয়ষী প্রশংসা করেন। এছাড়া বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সংগঠনের ডাইরেক্টর সংখ্যা বৃদ্ধি করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সদস্যদের অনুমোদন নিয়ে সংগঠনের সংবিধান সংশোধন করে তিনি ১৪ জন নতুন ডাইরেক্টর নেয়ার পথ সুগম করেছেন।
যার ফলে বর্তমানে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৩৫ জনে উন্নীত হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুনরা যাতে সংগঠনের হাল ধরতে পারে সেজন্য তিনি ডাইরেক্টরশীপের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য সীমিত করা হয়েছে। ১০ বছর পরে একজন ডাইরেক্টর সংগঠনের সক্রিয় ডাইরেক্টর পথ হারাবেন, সম্মানসূচক (অনারারি) ডাইরেক্টর হিসেবে পরিচিত হবেন।
মাতাব চৌধুরী বলেন, দুই বছর আগে তিনি দায়িত্ব নেয়ার সময় সংগঠনের তহবিল খালি পেলেও বিদায় বেলায় তিনি বিবিসিসিআই-এর জন্য শক্তিশালী একটি তহবিল রেখে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, জেএমজি কার্গো, সিলেটের গ্রান্ড সুলতান এবং ঢাকার হোটেল রিজেন্সিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্পোরেট চুক্তির মাধ্যমে বিবিসিসিআইয়ের সদস্যদের জন্য বিশেষ ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করেছেন বলে জানান মাতাব চৌধুরী।
সংগঠনের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এনাম আলী এমবিই বলেন, বিবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ। সংগঠনের সকল মেম্বার ও ডাইরেক্টরদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়িক কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। সংগঠনকে আরও বেশি কার্যকর ও সক্রিয় করে তুলতে তাঁর নানা পরিকল্পনা আছে জানিয়ে এনাম আলী বলেন, ব্যবসায়ী কিংবা কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তিনি শুনতে চান এবং এসব সমস্যা সমাধানে তিনি স্বাধ্যমত চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সংগঠনের বিদায়ী ফাইনেন্স ডাইরেক্টর এবং নব নির্বাচিত কমিটির ডাইরেক্টর জেনারেল সাইদুর রহমান রেনু বলেন, বিবিসিসিআই গত দুই বছর বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে।
বিদায়ী কমিটির দক্ষতা ও একাগ্রতার ফলে সংগঠনের তহবিল এতটাই মজবুত হয়েছে যে, তা দিয়ে আগামী দুই বছর চলতে পারবে বিবিসিসিআই। বিদায়ী কমিটির মেম্বারশীফ ডাইরেক্টর এবং নব নির্বাচিত কমিটির ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর মনির আহমদ বলেন, গত দুই বছর বিবিসিসিআই-এর মেম্বারশীফ ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংগঠনের স্বার্থ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
নতুন মেম্বার সংগ্রহে তার যে সফলতা তার কৃতিত্ব তিনি তাঁর সহকর্মীদের সাথেও ভাগাভাগি করতে চান। নতুন কমিটির ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য তিনি সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা চালাবেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রুশনারা আলী তার বক্তব্যে ইউরোপিয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকা না থাকা প্রশ্নে আসন্ন গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তিনি চান যুক্তরাজ্য ইইউর সাথেই থাকুক। তিনি বলেন, ইইউর করা কিছু আইনের ফলে ব্রিটেনে অভিবাসীদের অনেক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার, অ্যাসাইলাম এবং কর্মক্ষেত্রে সমঅধিকার বিষয়ক আইনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকদের ইইউতে থাকার পক্ষে অবস্থান নেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ইইউ ছাড়লে ব্রিটেনে অভিবাসীদের অনেক অধিকার খর্ব হতে পারে।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র জন বিগসও ইইউতে থাকার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম এ হান্নান ব্রিটেন প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানান। তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের নানা সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।