বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে রবিবার সবচেয়ে আলোচিত ছিল বিশ্বম্ভরপুরের দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের নির্বাচন। এই ইউনিয়নের দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ শনিবার সমান সমান ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার। এই দুই প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের মো. আব্দুল গণি এবং জাপার মো. এরশাদ মিয়া। এরা দুই জনেই ভোট পেয়েছেন ৪০৩০ করে। অবশ্য. জাপার জেলা আহ্বায়ক স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ বলেছেন,‘আমার প্রার্থীর ফলাফল ক্যু হয়েছে’। এই ইউনিয়নের নির্বাচনের কী হবে, এই নিয়ে বিভ্রান্তি কাটেনি ভোটারদের।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নে মোট ভোট ১৪ হাজার ৬৭০। দুই প্রার্থীর ভোট সমান হওয়ায় এই ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিলেন উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার সন্ধায় ভোট গণনা শেষে প্রথম প্রচার হয় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। পরে আবার জাপা সমর্থকরা দাবি করেন তাদের প্রার্থী জয়ী হয়েছে। রাত ৯ টায় রিটার্নিং অফিসার ফলাফল ঘোষণার সময় জানান- আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আব্দুল গণি ও এরশাদ মিয়া সমান সমান ভোট পেয়েছেন। দুই জনেই ৪০৩০ ভোট পেয়েছেন। জাপার কর্মীরা এসময় হৈ-চৈ শুরু করেন। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ থেকে জাপার নেতা-কর্মীরা বিশ্বম্ভরপুরে যান। জাপা নেতা কর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও রিটার্নিং অফিসার মো. বেলাল হোসেনের কাছে দাবি করেন তাদের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন বলে। জাপার এই তৎপরতায় আওয়ামী লীগও তৎপর হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের জেলার দায়িত্বশীলরাও ফোনে বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। দুইপক্ষের তদবির ও চাপাচাপিতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে উপজেলা প্রশাসন। এই অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ক্ষুব্ধ হয়ে কথা বলতে হয়েছে।
রাত ১২ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও রিটার্নিং অফিসার মো. বেলাল হোসেন বেসরকারি
ফলাফল ঘোষণার সময় বলেন,‘দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আব্দুল গণি ৪০৩০, জাপার প্রার্থী এরশাদ মিয়া ৪০৩০, বিএনপির প্রার্থী ছবাব মিয়া ৩৭১৪, খেলাফত মজলিশের মো. আমিন উদ্দিন ভুইয়া ১৩ ভোট পেয়েছেন। দুই জনের ভোট সমান হওয়ায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানো হবে’।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মো. বেলাল হোসেন বলেন,‘রোববার সকালেই দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের ভোটের অবস্থা নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে এই ধরনের হলে বিধি হচ্ছে পরবর্তীতে কেবল এই দুই প্রার্থী’র (সমান সমান প্রাপ্ত) মধ্যে ভোটের আয়োজন করা’।
জেলা জাপার আহ্বায়ক সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ বলেন,‘প্রথমে শুনেছি আমাদের প্রার্থী ১২ ভোটে পাস করেছেন, পরে আমাদের প্রার্থীর ফলাফল ক্যু করার চেষ্টা হয়েছিল, জনগণের চাপে শেষে ভোট সমান সমান দেখানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখন বিধি অনুযায়ি ব্যবস্থা নেবে’।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘প্রথম শুনা গেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয় হয়েছে, পরে আবার গণনায় দেখা গেছে দুই প্রার্থী সমান সমান। এখন বিধি অনুযায়ি যা হয় তাই হবে’।
- সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের দাবিতে জনপ্রতিনিধিদের মানববন্ধন
- রমজানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়নে আশাবাদ তৈরি হয়েছে


