রমজান মাসেও আসছে বিদেশী মদ

বিশেষ প্রতিনিধি
রমজানের মাসেও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে  শহরের চিহ্নিত কিছু মাদক ব্যবসায়ী। এরা সীমান্তের ওপার থেকে চোরাই পথ দিয়ে মাদক এনে শহরে বিক্রি করে আবার নানা কৌশলে বহনকারী দিয়ে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক পাঠিয়ে দিয়ে বেশি দামে ভারতীয় মদ বিক্রি করছে। চিহ্নিত এই মাদক ব্যবসায়ীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে খুবই কম। পড়লেও আইনের ফাঁক ফোকরে বের হয়ে নতুন উদ্যোমে মাদক ব্যবসা চালায় এরা। মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেরা মাদক বহন করে না। দরিদ্র বেকার এবং অপেক্ষাকৃত বুদ্ধিহীন মানুষকে টার্গেট করে মাদক বহনের কাজে লাগায় এরা। মাঝে-মধ্যে এই বুদ্ধিহীন মানুষগুলোই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। শনিবার সকাল ৮ টায় সুরমা নদীর উত্তর পাড় থেকে ভারতীয় ১৮ বোতল মদ এপারে নিয়ে আসার সময় উত্তর আরপিন নগরের ফয়সল আহমদ নামের এক তরুণ মাদক বহনকারী র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছে। র‌্যাব সদস্যরা পরে ঐ তরুণকে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
পুলিশ, মাদ্রক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়া, তেঘরিয়া, উত্তর আরপিননগর, ষোলঘর, হাসননগর, উত্তম লাল কলোনীসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১২ জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। উত্তম লাল কলোনী ছাড়া অন্যরা ভারতীয় দামি মদ এনে শহরে বিক্রি করে। আবার কোন কোন সময় বহনকারীর মাধ্যমে সিলেটসহ দেশের অন্য এলাকায় ভারতীয় দামি মদ পাঠিয়ে ব্যবসা করে আসছে এরা। মাদক ব্যবসায়ীরা বহনকারী হিসাবে বেকার তরুণ বা অপেক্ষাকৃত বুদ্ধিহীন তরুণদের কাজে লাগায়।
জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়ের  বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা সীমান্তের চোরাপথে এপারের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেয় দামি মদ। পরে এই মদ সুরমার উত্তরপাড় পর্যন্ত পৌঁছে দেয় সীমান্ত এলাকার বহনকারীরা। সুরামার উত্তর পাড় থেকে সুযোগ বুঝে বহনকারীদের মাধ্যমে এপারে আনা হয় মাদক। একজন বহনকারীকে এক ব্যাগ (স্কুল ব্যাগ) ভারতীয় মদ সুরমার উত্তর পাড় থেকে এপারে আনতে বা ওয়েজখালী পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা দেওয়া হয়। শুক্রবার উত্তর আরপিন নগরের তারা মিয়ার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী তাহিন আহমদ একই এলাকার ফয়সল আহমদ নামের এক তরুণকে সুরমার উত্তর পাড় থেকে এক ব্যাগ ভারতীয় মদ এপারে আনতে কৌশলে ৩০০ টাকায় রাজি করায়, র‌্যাব-৯’এর সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের একদল সদস্য নদী পাড় হবার সময় ঐ তরুণকে মদসহ আটক করে। শেষে উত্তর আরপিন নগরের বাসিন্দাদের অনেকেই র‌্যাব সদস্যদের জানান, ফয়সল মাদকাসক্তও নয়, মাদক বিক্রেতাও নয়। একইভাবে এর আগে উত্তর আরপিননগর এলাকার হামজা নামের আরেক তরুণ ও লাভলী বেগম নামের আরেক মহিলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মদসহ ধরা পড়েছিল।
মহল্লার লোকজন জানিয়েছেন, এরা কেউই মাদক ব্যবসায়ী ছিল না। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীরা সহজ সরল এই মানুষগুলোকে দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে ব্যবহার করেছিল।
বেকার যুবক ফয়সল আহমদ মহল্লার লোকজনের সামনেই র‌্যাবকে জানায় পাড়ার তাহিন আহমদ তাকে ওপার থেকে ব্যাগটি এপারে দাঁড়ানো একজন ঠিকাদারের হাতে তুলে দিলেই ৩০০ টাকা দেবে বলায় ব্যাগটি সে বহন করেছে। ব্যাগের ভিতরে কী আছে জানে না সে। তাহিনকে খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি র‌্যাব।
সদর থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী বলেন,‘শহরে ১২ জন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে, এদের কেউ জেলে, কেউ পলাতক, পলাতকদের আমরা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি’।