‘আহ্লান সাহ্লান শাহ্রে রমজান’

আলহাজ্ব কাজী মাও.মো.শাহেদ আলী
(পূর্ব প্রকাশের পর)
আল্লাহতা’লা পবিত্র কুরআন শরীফে এরশাদ করেছেন, অর্থাৎ তোমরা যেমন রোজা রেখেছিলে, তেমনি আজ সুখে পানাহার কর। সেদিন হাসরের মাঠে লক্ষ কোটি মানুষ আফসোস করে বলবে যে হায়! দুনিয়াতে যদি আমরাও রোজা রাখতাম, তবে আজ আমরা সেই সুভাগ্যের অধিকারী হতাম। সেদিন শতশত আফসোস করেও কোনো ফল হবে না।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হুজুরে পাক (সা.) এরশাদ করেছেন, রমজান মাস আগমন করলে দোজখের সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। আর বেহেস্তের দরজা সমূহ উন্মুক্ত করে রাখা হয় এবং অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দি করে রাখা হয়। গুনিয়াতুততালেবিন কিতাবে আছে হযরত কাতাদাহ (রা.) হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণনা করেন, হুজুরে পাক (সা.) এরশাদ করেন, রমজান মাসের প্রথম রাতে আল্লাহতা’লা বেহেস্তের প্রহরী রেজওয়ানকে আহ্বান করলেন, রেজওয়ান বিনীতভাবে বলেন, হে প্রভু! আমি হাজির। তখন আল্লাহতা’লা   বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু রোজাদার উম্মতের জন্য বেহেস্ত পরিস্কার কর। উহা উত্তমরূপে সজ্জিত কর এবং উহার দরজা খুলিয়া দাও। রমজান শেষ না হওয়া পর্যন্ত উহার দরজা বন্ধ করিও না। অত:পর দোজখের ফেরেস্তাকে আদেশ করেন, আমার প্রিয় মুহাম্মদ (সা.) এর রোজাদার উম্মতের জন্য দোজখের দরজা বন্ধ করে দাও এবং রমজান শেষ না হওয়া পর্যন্ত উহার দরজা খুলিবে না। অত:পর আল্লাহর ফেরেস্তা জিব্রাইলকে বলেন, তুমি দুনিয়ায় গমন করে শয়তানকে বাঁধিয়া ফেল। যেন তাহারা মুহাম্মদ (সা.) এর রোজাদার উম্মতের রোজা অনিষ্ট এবং ইফতারের সময় কোনো প্রকার ক্ষতি করতে না পারে। অত:পর আল্লাহতা’লা সুর্যদয় হতে ইফতার করার সময় পর্যন্ত তাহার দাসদাসীদের ক্ষমা করতে থাকেন। বুখারী শরীফ, মুসলিম, সুনানে তিরমিজি, নাসায়ী ও সহীহ ইবনে মাজা নাসায়ী হইতে বর্ণিত আছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, বেহেস্তের আটটি দরজা আছে। ইহার একটির নাম র‌্যায়ান। রোজাদারগণ এই দরজা দিয়ে বেহেস্তে প্রবেশ করবেন। আল্লাহতা’লা আমাদের সবাইকে রাসুলে পাকের সুপারিশ পাওয়ার এবং মাহে রমজানের রোজার ফজিলত ও বরকত দান করুন।   
লেখক সুপার. ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদ্রাসা, সুনামগঞ্জ।