আগের দিন সদর উপজেলা খাদ্য গোদামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তিন বহিরাগত অকৃষক দালালকে অর্থদ- করার মধ্য দিয়ে কৃষকদের মনে যে স্বস্তিভাব জেগেছিল ঠিক পরদিন জামালগঞ্জ খাদ্য উপজেলা খাদ্য গোদামের চালচিত্র পড়ে উল্টো হতাশাভাব জাগ্রত হয়েছে। সোমবার জেলা শহরের খাদ্য গোদামে দালালচক্রকে দ- দেয়ার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের নিকট প্রশাসন একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন যে, এখানে কোন ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সর্বত্র বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। ধান ক্রয় মৌসুম শুরুর পর থেকেই গণমাধ্যম বিষয়টির উপর তীক্ষè দৃষ্টি রাখছিল। বিগত বছর সমূহের নিন্দাজনক উদাহরণ সামনে এনে এবার অন্তত প্রকৃত কৃষকদের নিকট থেকে সময়মতো ধান ক্রয় অভিযান শুরু করাই ছিল গণমাধ্যমগুলোর মূল উদ্দেশ্য। জনস্বার্থ সংরক্ষণকারী যেকোন বিষয়ে সুনামগঞ্জের গণমাধ্যম সর্বদাই নিজের সাধ্যমত সাধারণ মানুষের পক্ষে থাকার চেষ্টা করেছে। সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সদিচ্ছার কোন অভাব নেই। এই সদিচ্ছা থেকেই এবার কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক সনাক্তকরণ এবং কৃষকদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ধানের মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু দুর্জনের নাকি ছলের অভাব হয় না। জামালগঞ্জের ওসি এলএসডি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে চেকের খালি পাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নিজের হেফাজতে রেখে দেন, গণমাধ্যমকর্মীরা এরকম কিছু চেক সরেজমিনে দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। অনিয়ম করে চেকের টাকা পরিশোধে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন স্থানীয় সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক। এতে ওসি এলএসডি ব্যাংকগুলোর উপরও ক্ষিপ্ত হয়েছেন। জামালগঞ্জের এহেন কর্মকা- জেলার পুরো ধান-চাল ক্রয় অভিযানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেললো। এই খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষকের স্বার্থ হানিকর কাজে নিয়োজিত থাকার অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা উচিত বলে আমরা মনে করি। একই সাথে সবগুলো গোদামেই অনুরূপ বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খুঁজে দেখা দরকার।
সরকারের ভাল ভাল নীতিগুলো মাঠ পর্যায়ে এসে দুর্নীতিগ্রস্ত বাস্তবায়নকারী কর্মচারীদের কারণে ভেস্তে যাওয়ার দৃশ্য দেখে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। সরকারি কর্মচারিদের এখন জনগণের সেবক অভিধায় অভিহিত করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এই সেবকরা নিজেদের প্রভু ভাবতেই বেশি পছন্দ করেন। তাদের পালে হাওয়া দেয় স্বার্থাণে¦ষী একটি মহল যারা মাঝখান থেকে সুবিধা লুটে নিতে ওস্তাদ। খাদ্যগোদামে প্রকৃত কৃষকরা ধান বিক্রি করতে না পারলেও মধ্যসত্বভোগী ফরিয়া ও দালালচক্র অবাধে এই সুযোগ নিতে পারছে। তারা নিজেরা লাভবান হয়ে একটা অংশ বিলিয়ে দেয় দায়িত্বশীলদের। স্বার্থবিলাসী এই দুই চক্রের কারণেই আজ সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নে এসে নিজের চরিত্র হারাচ্ছে। সরকার যদি জনগণের প্রতি নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ রাখেন তাহলে বিষয়গুলোর উপর নজর দেয়া উচিত।
সরকারি খাদ্য গোদামে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দকে আমরা সবিনয়ে অনুরোধ জানাই, যতদিন এই অভিযান চলবে ততদিন পর্যন্ত আপনারা সদর উপরজেলার মতো সর্বত্র কঠোর নজরদারি বজায় রাখুন। এই নজরদারি অব্যাহত থাকলে সাধারণ কৃষকরা গোদামে যেতে উৎসাহিত হবেন আর ফরিয়া-দালালরা নিজেদের গুটিয়ে রাখতেও বাধ্য হবে। এর মধ্য দিয়ে সরকার যে আসলেই জনগণের কল্যাণে নিরলস কাজ করছে তাও প্রমাণিত হবে। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃত্বকেও গ্রহণ করতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা। আমরা মনে করি তাঁদের ভূমিকাই সবচাইতে কার্যকরী হবে। কারণ রাজনীতিবিদরা সচেতন হলে দুর্নীতির বিস্তার ঘটানো কঠিন কাজ হয়ে যাবে বৈকি।
- দ. সুনামগঞ্জে এলসিবিসিই’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- কুশিয়ারায় রানীগঞ্জ সেতুর দরপত্র বুধবার অনুমোদিত হবে

