আকরাম উদ্দিন
শহরের ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের অস্থায়ী দোকান স্থাপন করায় রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে পথচারীদের চলাচলে যেমন বাধা সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও স্থায়ী দোকানীরা তাদের দোকানের মালপত্র রাস্তার মাঝ পর্যন্ত রেখে দেয়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
শহরের কালীবাড়ির রাস্তায় ও পয়েন্টে, দোজা মার্কেটের সামনে, প্যালেস হোটেলের সামনে, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স কার্যালয়ের সামনে অনেকগুলো চায়ের দোকান ও সবজির দোকান রয়েছে। এইসব দোকানের কারণে যানজট লেগে থাকে সারা বছর। মুক্তারপাড়া প্রবেশমুখে সবজির দোকানগুলো রাস্তার একাংশ দখল করে ফেলেছে। ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় সবজি ও ফলের দোকান স্থাপন করায় পয়েন্ট এলাকা খুবই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব দোকান মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একাধিকবার উচ্ছেদ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরে আবার যেইসেই রকমভাবে দোকানগুলোও পুরানো জায়গা খুঁজে নিয়েছে।
হোটেল নুরের সামনে ও রমিজ বিপণির সামনে রয়েছে সবজির দোকান ও ফলের দোকান, পূর্ববাজার জামে মসজিদ মার্কেটের সামনে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দোকানের মালামাল রাখায় পথচারী,
মসজিদের মুসল্লি এবং যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। পশ্চিমবাজারমুখী চৌমুহনী পয়েন্টে সবজির দোকানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও জন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়ে আসছে। অনুরূপ মধ্যবাজার এলাকায় অস্থায়ী সবজির দোকান রয়েছে। এসব যানজটের মধ্যে আবার প্রতিনিয়ত ছোট বড় কয়েকটি মালবাহী ট্রাক সুরমা মার্কেটে আসা যাওয়া করে। এতে কোনো কোনো দিন ঘণ্টাখানেক সময় যানজট লেগে থাকে।
এদিকে, শহীদ মিনারের সামনে, তাহিতি হোটেলের পাশে, ঐতিহ্যবাহী জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সামনে, থানার সামনে, মহিলা কলেজের বর্ধিত ক্যাম্পাসের (পুরাতন কারাগার) সামনে সবজির দোকান রয়েছে। মহিলা কলেজের বর্ধিত ক্যাম্পাসের সামনে ছোট-বড় অনেক ট্রাকের মালামাল উঠানামা করা হয়। সবজির দোকান ও ট্রাক আসা-যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ কিচেন মার্কেটে প্রবেশে নানা সমস্যার সম্মুখিন হন। এই বর্ধিত ক্যাম্পাসের সামনে যারা ব্যবসা করছেন তারা এক শ্রেণীর মানুষকে চাঁদা দিয়ে বসে ব্যবসা করছেন বলে জানান একাধিক ব্যবসায়ী।
পুরাতন জজকোর্ট এলাকায় কাঠালের ব্যবসাসহ নানা প্রকার মালামালের ব্যবসা জুড়ে দেয়ায় পথচারীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার সম্মুখিন হচ্ছেন। ফুটপাতের রাস্তায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে এবং জুবিলী স্কুলের সামনে অনুরূপ একাইধক অস্থায়ী দোকান ও চা-স্টল রয়েছে। কোন কোন চা-স্টলে নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রিরও অভিযোগ আছে। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী মেয়ে শিক্ষার্থীরা দোকানে বসে থাকা নেশাখোরদের কটুক্তির শিকার হন। কিন্তু এই দোকান মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একাধিক বার ভেঙ্গে ফেলা হলেও আবারও সেগুলো সস্থানে ফিরে আসে।
বালুর মাঠের দেয়ালের পাশে বসে ফল ও সবজির অসংখ্য দোকান। উকিলপাড়া পয়েন্টের দোকানগুলোর চুলা স্থাপন করা হয়েছে ফুটপাতের রাস্তার উপর। মেইন রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় চুলার গরম তেল ও অগ্নিস্ফুলিঙ্গ উড়ে পথচারীদের জামাকাপড়ে পড়ে। এছাড়াও এই পয়েন্টে যানজট লেগেই থাকে। ষোলঘর থেকে আসা পথচারী সোহেল আহমদ তালুকদার বলেন, ‘ফুটপাতের দোকানের কারণে মানুষ ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হয়, তেমনি এসব দোকানের ময়লা আবর্জনা রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয়ায় শহরের পরিবেশ নষ্ট হয়।’
পথচারী রিপন চৌধুরী বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করে দেখেছি রাস্তার ধারের রাস্তা দখল করে ব্যবসা করার বদভ্যাস বেড়েই চলছে। পূর্ববাজার মসজিদের মার্কেটের কতিপয় ব্যবসায়ী রাস্তার বিশাল অংশ দখল করে ব্যবসা করছেন। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।’


