বিশেষ প্রতিনিধি
জাতীয় সম্মেলনের পর জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করার আভাস দিয়েছেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী। রবি ও সোমবার সংগঠনের বিবদমান দুই গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে ইনাম আহমদ চৌধুরী এমন আভাসই দিয়েছেন নেতাকর্মীদের।
রবিবার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির প্রথম সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনের নেতৃত্বে জেলার নবগঠিত ১২ ইউনিটের নেতৃবৃন্দসহ সংগঠনের একাংশ ঢাকার বনানীর বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেন ইনাম আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে এবং সোমবার বিকাল ৬ টায় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক আছপিয়ার নেতৃত্বে আরেকাংশ ইনাম আহমদ চৌধুরী’র সঙ্গে নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে মহানগর বিএনপির অফিসে বৈঠক করেন। এসময় কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবনও উপস্থিত ছিলেন।
সোমবারের বৈঠকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক আছপিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. রফিক চৌধুরী, জগন্নাথপুর বিএনপির আহ্বায়ক লে. কর্নেল অব. আলী আহমদ, ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুনসিফ আলী, মুক্তার হোসেন, ওয়াকিপুর রহমান গিলমান, আকবর আলী, নাদীর আহমদ, আবুল মুনসুর শওকত, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, অ্যাড. শেরেনুর আলী, সেলিম আহমদ, আনছার উদ্দিন, নুরুল ইসলাম নুরুল, নাসিম উদ্দিন লালা, আব্দুল হাই, স্বপন চৌধুরী, আফছর উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি ত্রি-ধারায় বিভক্ত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল জেলা বিএনপি, ১১ উপজেলা, থানা ও পৌর বিএনপির পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে প্রথম সদস্য করে ৮৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
কমিটি গঠনের ৭ মাসের মাথায় ঐ বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ জেলার ১৬ টি সাংগঠনিক ইউনিটের ১৫ টির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। একই সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক রিজভী আহমেদের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি দৈনিকে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নাম ছাপা হয়েছিল।
এরপর গত বছর দিরাই, শাল্লা, দিরাই পৌরসভা, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, জগন্নাথপুর পৌরসভা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করে সভাপতি ও সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। কোন কোন উপজেলায় বিক্ষুব্ধরা পাল্টা কমিটিও ঘোষণা করেছেন।
সম্মেলন হয়নি ছাতক, দোয়ারাবাজার, ছাতক পৌরসভা, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও সুনামগঞ্জ পৌরসভায়।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রথম সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেছেন,‘কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ইনাম আহমদ চৌধুরীকে আমরা সাংগঠনিক নানা কার্যক্রম অবহিত করেছি, তিনি কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন’।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি নাদীর আহমদ বলেন, ‘আজ সোমবার সুনামগঞ্জের দুই অংশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতাদের বৈঠক ছিল, কিন্তু নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকরা উপস্থিত হননি, আমরা বলেছি সংগঠনের ক্রান্তিকালে তাঁরা (নাছির উদ্দিন-কলিম উদ্দিন মিলন) সংগঠনকে আরো দুর্বল করেছেন, এই অবস্থায় জেলা সদরে যারা রাজনীতি করে তাঁদের মধ্য থেকে জেলা নেতৃত্ব রাখার অনুরোধ করেছি’।
সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ফজলুল হক আছপিয়ার সমর্থক অ্যাড. শেরেনুর আলী বলেন,‘আমরা ইনাম আহমদ চৌধুরীকে বলেছি বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি সংগঠনে কোন্দল আরো বাড়িয়েছে, এক তরফা কমিটি করেছে, পৌর নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা না বলে প্রার্থী ঘোষণা করায় ভরাডুবি হয়েছে’। তিনি জানান, বক্তব্য শুনার পর ইনাম আহমদ চৌধুরী বলেছেন, দলীয় চেয়ারপার্সনকে আমাদের কথা জানাবেন এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সম্মেলনের পর দলীয় চেয়ারপার্সনের সঙ্গে কথা বলে জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের প্রচেষ্টাও চালানো হবে’।
- দোয়ারাবাজার ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের প্রার্থীতা নিয়ে আ.লীগে মতভিন্নতা
- অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া


