ধর্মপাশা প্রতিনিধি
দুটি গ্রামের দূরত্ব কয়েশ মিটার। মাঝখানে একটি খাল গ্রাম দুটিকে পৃথক করেছে। বর্ষায় সে খালে অথৈই পানি থাকায় পারাপারের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। আর হেমন্তে সে খাল শুকিয়ে যায়। ফলে বর্ষায় সহজে পারাপারের জন্য ওই খালে একটি সেতু নির্মাণের উপযোগীতা তৈরি হয়। পাঁচ বছর আগে সরকারি অর্থায়নে সেখানে নির্মাণ হয় সেতু। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন এতে দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু বিধি বাম। সেতু থাকা সত্বেও বর্ষায় পারাপারে নৌকা ও হেমন্তে সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করতে হয় দুই গ্রামবাসীকে। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না। স্থানীয়দের কাছে এটি অকাজের সেতু বলে পরিচিত। এমন অকাজের সেতুটি ধর্মপাশা উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের নন্দীপাড়া ও কামারগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৮৩৭ টাকা ব্যয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট কর্মসূচির আওতায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় ওই সেতুটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে। ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণের ফলে বর্ষায় অসহায় হয়ে পড়া দুই গ্রামবাসীর মনে আশা জেগেছিল। কিন্তু সেতুটি ব্যবহার করতে না পারায় নন্দীপাড়া ও কামারগাঁও গ্রামের দেড়শতাধিক পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি নিচু করে নির্মাণ করায় বর্ষায় ওই খাল দিয়ে কোনো নৌযানও চলাচল করতে পারে না।
চামরদানি ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও নন্দীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জীবন কৃষ্ণ তালুকদার বলেন, ‘সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কোনো উপকারেই আসছে না। বর্ষায় নৌকা ও হেমন্তে সেতুর নিচ দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। তাই সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা জরুরি।’
চামরদানি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়াসিল আহমেদ বলেন, ‘দুই গ্রামের মানুষের সুবিধার্থে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবো।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও কখনও বন্যায় সড়কের মাটি সরে গিয়ে এমনটি হয়ে থাকে। যে সমস্ত সেতুর সংযোগ সড়কের সমস্যা রয়েছে তার তালিকা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


