হাওর অধ্যূষিত সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান উৎপাদন খাত কৃষির একটি অন্যতম সমস্যা অকাল বন্য নিয়ে দৈনিক সমকাল ১০ জুন শনিবার গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করেছিলো। আলোচনায় যথাযথভাবে অকাল অগ্রিম বন্যায় আমাদের প্রধান উৎপাদন খাত বোরো ফসলকে কীভাবে নিয়মিত বিরতিতে বিপর্যস্ত করে তার বর্ণনা উঠে এসেছে। একই সাথে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হাওরে উৎপাদিত বোরো ফসলের গুর”ত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে। হাওরের এই গুর”ত্বের প্রেক্ষিতে এর সমস্যার আশু সমাধানের বিষয়টিও পরিষ্কারভাবে ধ্বণিত হয়ছে। গোলটেবিলে এ নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ পাওয়া যায় যা প্রণিধানযোগ্য এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য এগুলোর বাস্তবায়ন শুর” করা উচিৎ। গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ. মান্নান। তিনি হাওরের সমস্যা নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেছেন, হাওরের প্রাণ প্রকৃতি নষ্ট করে আর কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে না। উন্নয়ন হবে, তবে তা হবে হাওরকে বাঁচিয়ে। আলোচনার সঞ্চালক দৈনিক সমকাল’র উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খানও বলেছেন, আমরা উন্নয়ন চাই তবে সেই উন্নয়ন হতে হবে আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশকে রক্ষা করে। যে উন্নয়ন আমাদের প্রকৃতিকে নষ্ট করে দেয় সেই উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করার আহŸান জানিয়েছেন তিনি।
অকাল বন্যা থেকে হাওরকে রক্ষা করতে পানির প্রবাহের উপর সর্বাধিক গুর”ত্ব দেয়া হয়েছে। উজানের ভারতে এবং অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাতের ফলে হাওর এলাকায় যে বিপুল জলরাশি পতিত হয় তা নিষ্কাষণের জন্য যে নদ-নদী, খাল-বিল-নালাগুলো রয়েছে সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করে কার্যক্ষম করে তোলার উপর সর্বাধিক গুর”ত্ব এসেছে। হাওরে অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে প্রকৃতি বিধ্বংসী কর্মকাÐ থেকে সরে আসার প্রস্তাব এসেছে। এসেছে প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পর্যটনকে নিয়ন্ত্রণের কথা। জেলার সকল নদ-নদী, খাল ও জলাশয়গুলোকে বৈজ্ঞানিক পন্থায় খনন করে অবাধ পানিপ্রবাহ তৈরি করে দিলে হাওরাঞ্চলের অকাল বন্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে সকলে একমত হয়েছেন।
গোলটেবিল আলোচনায় যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তার কোনটিই নতুন কিছু নয়। এর সবগুলোই বহুল আলোচিত ও চর্চিত। ২০১২ সনের হাওর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনায় এসব বিষয় উঠে এসেছে এবং সুনির্দিষ্টভাবে কী কাজ করতে হবে তার বিস্তারিত পরিকল্পনা দেয়া হয়েছে। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়েছিলো এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য। বোর্ড গঠনও করা হয়েছে। সুনামগঞ্জেও রয়েছে এর ভবন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতপক্ষে হাওরের উন্নয়নে কাজ শুর” করতে পারেনি। কেন পারেনি তা কারও জানা নেই। ঢাকায় প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর আছে কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কেউ নেই। এই প্রতিষ্ঠানটিকে অকার্যকর করে রাখার মধ্য দিয়ে মূলত ওই মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নকেই ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ দিয়ে হাওর যে সুরক্ষিত থাকছে না তা নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। দুর্যোগের বছরগুলোতে তার প্রমাণ মিলে। সুতরাং হাওরের পানি ব্যবস্থাপনার জন্য পাউবো’র সনাতনী ধ্যান ধারণার পরিবর্তে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারণার প্রয়োগ ঘটানো এখন সময়ের দাবি। এ কারণে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডকে সচল ও ক্ষমতায়ন করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। হাওরের পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দ্বারা করানো সমীচীন নয়। এতে একটি কাজের সাথে অপর আরেকটি কাজের বিরোধ তৈরি হয়। কাজের কোনো সমন্বয় থাকে না। বর্তমানে নদী খনন কাজ নিয়ে স্থানীয় মানুষের প্রচুর অভিযোগ আছে কারণ এই নদী খননের বিষয়টি সম্পর্কে কেউ কিছু জানেন না। কাজের মান বজায় রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা একটি আবশ্যিক শর্ত।
- আইএমএফ চাপ দেয়নি পরিকল্পনামন্ত্রী
- অকাল বন্যার ঝুঁকি থেকে হাওরাঞ্চলকে রক্ষা করার উপায় : একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা


