টিপু সুলতান, দিরাই
দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে প্রধান দুই রাজনৈতিকদল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে অনেকটা বেকায়দায় পড়েছেন দলীয় প্রার্থীরা। অজনপ্রিয় প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে অধিকাংশ ইউনিয়নেই জয়ের পথে হাঁটছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। পঞ্চম ধাপে এসব ইউনিয়নে আগামীকাল শনিবার ভোট গ্রহণ হবে।
দিরাই উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে রফিনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আল-মামুন, বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী ও মহসিন রেজা। এখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজোয়ান খাঁন দলীয় মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহীদের চাপ সামলে উঠতে পারছেন না। যার ফলে জয়ের পথে হাঁটছেন, বিএনপির একক প্রার্থী আনিসুর রহমান।
ভাটিপাড়া ইউনিয়নে দু’দলেরই একজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আফজল হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী বেলাল আহমদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন। ওই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পাওয়া জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে দলের নেতা-কর্মীরা বয়কট করায় জয়ের পথে হাঁটছেন বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান কাজী।
রাজানগর ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় প্রার্থী জুনায়েদ মিয়া সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও শেষ মুহূর্তে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে নৌকা প্রতীক নিয়ে সৌম্য চৌধুরীর। চরনারচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী পরিতোষ রায়কে বিজয়ী করতে দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। সরমঙ্গল ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েল বিদ্রোহী প্রার্থী এহসান চৌধুরীর কাছে ধরাশায়ি হতে পারেন। এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী কানু লাল দাসের জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও এতে বাধা হয়ে আছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী মহানন্দ দাস। করিমপুর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছাব উদ্দিন সরদার নৌকার দলীয় মনোনয়ন
পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী একই গ্রামের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহজাহান সরদার ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। বিএনপির একক প্রার্থী আবদুর রহিম মাস্টার সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও আছাব উদ্দিন সরদার বিজয়ী হতে পারেন। জগদল ইউনিয়নে দলীয় কুন্দলের কারণে নৌকার প্রার্থী হুমায়ুন রশিদ লাভলু বিদ্রোহী প্রার্থী শিবলী আহমদ বেগকে টপকাতে পারছেন না। এখানে বিএনপির একক প্রার্থী কামরুল হক বিজয়ী হতে পারেন । তাড়ল ইউনিয়নে উভয় দলেই একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলীয় প্রার্থীরা বেকায়দায় রয়েছেন। এখানে বিএনপি একেবারে নতুন মুখ আলী আহমদকে মনোনয়ন দিলেও বিদ্রোহী দুই শক্তিশালী প্রার্থী নুরুল হক তালুকদার ও আব্দুল কুদ্দুস দলীয় প্রার্থীকে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন। একই অবস্থা আওয়ামী লীগেও। বিদ্রোহী প্রার্থী প্রাক্তন চেয়ারম্যান আকিকুর রেজা ও ভোটর মাঠে নবাগত দ্রুপদ চৌধুরী নুপুর দলীয় তরুণ প্রার্থী আহম্মদ চৌধুরীকে কোনঠাসা করে রেখেছেন। কুলঞ্জ ইউনিয়নে দাপুটে ৪ বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে পরাজিত হতে পারেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মিলন মিয়া। এখানে ২ প্রবাসী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পবিত্র মোহন দাস ও বিএনপির দলীয় প্রার্থী মুজিবুর রহমানের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নেই শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঠে এসেছেন। শাল্লা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী আবুলেইছ চৌধুরীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দলীয় প্রার্থী আব্দুস সাত্তারের । হবিবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সুবলচন্দ্র দাস জয়ের পথে হাঁটলেও নৌকা নিয়ে বেকায়দায় বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল। বাহাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নরেশ চন্দ্র দাস শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও বেকায়দায় রয়েছেন দলীয় প্রার্থী বিধান চন্দ্র দাস। আটগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খোরশেদ আলম দলীয় প্রার্থী আবুল কাশেমকে বেকায়দায় ফেলায় ধানের শীষ নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বিএনপির নোমান আহমদ।


