অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

পিসি দাস, শাল্লা
শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। স্টেশনটি নির্মাণের আগেই প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করার বিষয়টি সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা।
প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ গত ৫ নভেম্বর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর ও জাতীয় দৈনিক সমকালে প্রকাশ হয়। ঐ সংবাদে উল্লেখ করা হয় ‘কাজ অর্ধেক বাকী রেখেই, প্রায় দুই কোটি টাকার স্থাপনা প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন (ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে) করানো হয়েছে। অথচ. এখনো (সোমবার পর্যন্ত) এই ভবনের কাজ শেষ হয় নি।
এই সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এমরান হোসেনকে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑ নির্বাহী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শাল্লা, উপজেলা প্রকৌশলী, শাল্লা এবং পিআইও শাল্লাকে।
এই কমিটি তদন্ত শেষে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই কমিটি’র রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে। এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ৪০ ভাগ নির্মাণ হবার পর ৮০ ভাগ বিল ঠিকাদারকে প্রদান করা হয়। স্টেশনটির নির্মাণ কাজ শেষ হবার আগেই কাজ শেষ হয়েছে দাবি করে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়।
জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে হওয়া তদন্ত কমিটির রিপোর্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রদান করার পর গণপূর্ত মন্ত্রী’র নির্দেশে সোমবার নির্মিতব্য শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন দেখতে আসেন ১৫৬ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক রেজওয়ানুল হুদা। তিনি সরেজমিনে নির্মিতব্য শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ঘুরে দেখেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রেজওয়ানুল হুদা বলেন,‘নির্মিতব্য এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন আগামী ১০ দিন পর উদ্বোধন করা যাবে কী-না এমন প্রশ্ন করলে আমি বলবো, কমপক্ষে আরও ২ মাস লাগবে। সরেজমিনে কাজটি দেখে আমারও মনে প্রশ্ন জেগেছে, এতগুলো ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ হচ্ছে, এটি কেন নির্মাণের আগেই উদ্বোধন করতে হলো। আমি এই প্রকল্পে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব আমার কাছে দেবার পর আমি অনেক খুঁজেছি এই বিষয়ে কোন অফিস আদেশ আছে কী-না, বা কে এটি উদ্বোধন করার অফিস আদেশ দিলো, আমি কোন লিখিত কাগজ পাই নি। ৪০ ভাগ কাজ শেষ করে ৮০ ভাগ কাজ শেষ করার বিল দেবার বিষয়ে এখনো কাগজে পত্রে তথ্য পাই নি। এটি বের করতে হলে যে সময়ে ৮০ ভাগ বিল দেওয়া হয়েছে, সেই সময়ের কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন জানতে হবে।
প্রসঙ্গত. প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জের শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ ২০১৬ সালে শুরু হয়ে ২০১৮ সালে শেষ হবার কথা থাকলেও এখনো অনেক কাজ বাকী রয়েছে। এই অবস্থায় গত বছরের নভেম্বর মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ভবনের উদ্বোধন করা হয়।