অবশেষে গৃহবন্দী শিশুকে সহায়তা

পি সি দাশ পীযূষ, শাল্লা
অবশেষে শাল্লার উপজেলা প্রশাসন অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের ৮ বছরের গৃহবন্দী শিশু নিকলেশকে উদ্ধার করে চিকিৎসা প্রদান শুরু করেছে । শুধু তাই নয় ১০ হাজার টাকার সহায়তার চেকও প্রদান করেছে প্রশাসন। এদিকে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ দেখে পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান তাঁর অফিসে একটি সভায় আসা শাল্লা থানার ওসি’র হাতে ১০ হাজার টাকা দিয়ে আজই (বৃহস্পতিবার) এই টাকা শিশুটির মার হাতে তোলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার আরও নির্দেশ দেন যে, নিকলেশের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা পুলিশের পক্ষ থেকে অব্যাহত রাখা হবে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুম বিল্লাহ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার এবং সাবেক সচিব মেজবাউল ইসলাম ঢাকার হিস্টোন বিজনেস সাপোর্টিং কো. এর সৌজন্য অসুস্থ শিশুর মা নিশা রানী দাসের হাতে ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। এসময় নিশা রানীর  আর একটি ১০ বছরের ছেলে মান্না দাসকে স্কুলে ভর্তি করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে  বলে জানান নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুম বিল্লাহ।
বুধবার বেলা ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুম
বিল্লাহ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গনেন্দ্র সরকার ও টিএইচও ডা. হেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে কোমড়ে রশি দিয়ে ঘরের খুঁটির সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে ছেলেটির মার সাথে কথা  বলে অসুস্থ শিশু নিকলেশকে বাধঁন খুলে দেওয়া হয় এবং তার চিকিৎসাসহ  যাবতীয় খরচ নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. মাছুম বিল্লাহ বহন করার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সংবাদ শুনে ছেলেটির মা নিশা রানী দাস কান্নায় ভেঙে পড়েন ।
জানা যায়, শাল্লা সদর ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের পুর্ব দিকে খাদ্য গোদামের দক্ষিণ রাস্তায় রাখাল দাসের চা দোকানের পাশে সরকারি জায়গার উপর একটি একচালা ঘরের ভিতরে অসহায় বিধবা মহিলার অবুঝ ২টি শিশু মান্না দাস (১০) নিকলেশ (৮)কে নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। এই করুণ সংবাদটি গত ৩১ জুলাই ও ৯ আগস্ট দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকায়  প্রকাশ হওয়ার পর প্রশাসন সহায়তার হাত প্রসারিত করায় একটু হলেও শান্তনা পেয়েছেন হতভাগী মা নিশা রানী ।