স্টাফ রিপোর্টার
জেলার বিভিন্ন স্থানের সুরমা নদী, হাওর ও জলাশয়ে মশারীর তৈরি অবৈধ কোনাজাল ব্যবহারে মাছের বংশ ধ্বংস হচ্ছে। চলতি মওসুমে নদী, হাওর ও বিভিন্ন জলাশয় এলাকায় এসব অবৈধ কোনাজাল ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। অবৈধ কোনাজাল ব্যবহার বন্ধের দাবি সচেতনমহলের।
সদর উপজেলার শহরতলীর সুরমা নদীর তীরে, পুরান লক্ষণশ্রী, হালুয়ারঘাট ও রহমতপুর সুরমা নদীর চর এলাকায়, বল্লবপুর ও হরিনাপার্টী এলাকায় সুরমা নদীর চরে সারা দিন ও সারা রাত কোনাজাল ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা শিকার করে আসছেন মৎস্যজীবীরা। মোহনপুর ও পৈন্দা সুরমা নদীর তীরবর্তী চর এলাকায় চলতি নদীর বালাকান্দা ও জিনারপুর এলাকায় এবং কাংলার হাওরের পাড়, দেখার হাওরের বিভিন্ন স্থানে নির্বিঘেœ এই কোনাজাল ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচা হাওরের ধরেরপাড় এলাকায়, পিয়ারীনগর, লালপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে, হালির হাওরের ফতেহপুর গ্রামের আশপাশে, আঙ্গারুলি হাওরের পশ্চিম দিকে, জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওরের বিভিন্ন স্থানে, তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওরের বিভিন্ন স্থানে কোনাজাল ব্যবহার করা হচ্ছে। ইঞ্জিন নৌকা ব্যবহার করে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় গিয়ে এই অবৈধ কোনাজাল ব্যবহার করে পোনা মাছ নিধন করে আসছেন মৎস্যজীবীরা।
অ্যাড. নুর হোসেন বলেন, যারা অবৈধ কোনাজাল
ব্যবহার করে মাছের পোনা নিধন করে আসছেন, তাদের নাম ও ঠিকানা মৎস্য অফিসের লোকজনের ভাল করে জানা আছে। যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নিলে কোনাজাল বন্ধ করা অতি সহজ। যারা যুগ যুগ ধরে অযথা পুকুরে ব্যবহারের নাম করে অবৈধ কোনাজাল হাওর ও নদীতে ব্যবহার করে আসছেন, তাদের বিরুদ্ধে সরেজমিন অভিযান করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আব্দুলগণি আনসারী বলেন, দিরাই থেকে মশারী কিনে এনে জোড়া লাগিয়ে জেলেরা কোনাজাল তৈরি করেন। পরে এই জাল দিয়ে হাওর ও নদীতে মাছের পোনা নিধন করেন। একবার জাল ফেললে, পানির নিচের যত প্রকারের মাছের পোনা রয়েছে এবং ডিম আছে সবই উঠে আসে এই অবৈধ কোনাজালে। এই জাল ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর মাছের বংশ ধ্বংস হয়ে আসছে। এবারের তিন দফা বন্যায় অনেক মাছ পুকুর থেকে বেরিয়ে পড়েছে। এসব মাছ নদী ও হাওরে ছড়িয়ে পড়েছে। ডিমও পাড়বে নদী হাওরে। মাছের ধ্বংস প্রতিরোধ করতে অবৈধ কোনাজাল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির প্রতিনিধি মো. আলাউর রহমান বলেন, কোম্পানী মশারী তৈরির অনুমোদন নিয়ে ঘন জাল তৈরি করে বিক্রি করছে। এই মশারী একটু উন্নতমানের এবং মাছ শিকারের উপযোগি করে বিক্রি করছে দিরাই উপজেলার বাজারে। এই মশারী কিনে এনে জোড়া লাগিয়ে মৎস্যজীবীরা কোনা জাল তৈরি করে মাছের পোনা নিধন করছেন। এসব অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হতে চলেছে। তাই দ্রুত এই অবৈধ কোনাজাল বন্ধ করার দাবি আমাদের।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সকল উপজেলায় অবৈধ জাল বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলে দেয়া আছে। যে উপজেলায় অবৈধ জাল দিয়ে মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে, তা খবর পেলে ওই উপজেলা মৎস্য অফিসার আইনী ব্যবস্থা নেবেন।
- ছাতক সিমেন্ট কারখানার কর্মকর্তাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশীট
- প্রয়াত সাংবাদিক আবেদ চৌধুরীর পরিবারের পাশে দাঁড়ালো আরটিভির পরিবার


