ধর্মপাশা প্রতিনিধি
কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের শুরুতে বীর নিবাস নির্মাণ কাজ শুরু করে তা একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৯টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এর মধ্যে দুটি বীর নির্বাস নির্মাণে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। দুই উপকারভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করায় দীর্ঘ ৫ মাস ধরে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আর কাজ বন্ধ থাকায় বীর নিবাসের নির্মিত অংশ বিনষ্ট হচ্ছে। এর প্রতিকার চেয়ে ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ওমর ফারুকের ছেলে হাবিবে দুজাহান গত বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ১ কোটি ২০ লাখ ৫৫৯ টাকা ব্যয়ে ৯টি বীর নিবাস নির্মাণের কাজ পায় ধর্মপাশার মেসার্স জব্বার বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধীকারী মঞ্জুরুল হক সুজন হলেও মাঠ পর্যায়ে দেখা যায় চুন্নু মিয়া নামের এক ব্যক্তি ওইসব বীর নিবাস নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছেন। যদিও সুজনের দাবি তিনি চুন্নুকে কাজে নিযুক্ত করেননি। তাই চুন্নু কীভাবে এ কাজ করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে কাজের শুরু থেকে চুন্নু নি¤œমাণের ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে কাজ করায় মোদাহরপুর গ্রামের উপকারভোগী প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়ার স্ত্রী মোছা. আমিনা ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ওমর ফারুকের ছেলে হাবিবে দুজাহান ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন। আর এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২২ মার্চ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে ইউএনও অভিযোগের সত্যতা পান এবং চুন্নুকে গুণগত মানসম্পন্ন উপকরণ দিয়ে কাজের নির্দেশ দেন। কিন্তু ইউএনওর নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুনরায় চুন্নু নি¤œমানের উপকরণ দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। ফলে আবারও উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করা হয়। পরে ২৮ মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো ইউএনও নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে আবারও অভিযোগের সত্যতা পান। ওইদিন থেকেই ওই দুটি বীর নিবাস নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার।
অভিযোগকারী হাবিবে দুজাহান বলেন, ‘অভিযোগ করায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চুন্নু আর যোগাযোগ করেনি। মাস দেড়েক আগে পিআইও ফোন করে কাজ হচ্ছে কি না জানতে চেয়েছিলেন। আমি জানিয়েছি কাজ বন্ধ রয়েছে।’
এ ব্যাপারে চুন্নু মিয়া ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক সুজন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি চিঠি পেয়েছি। কিন্তু কোনো জবাব দেইনি। চুন্নুর সাথে আমার যোগাযোগ নাই।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি তার ব্যাখ্যা চেয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে একাধিকার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কোনো জবাব দেয়নি।’
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


