সালেহ আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মিছাখালী রাবার ড্যাম অরক্ষিত। চলতি বছর মিছাখালী রাবারের ভেতর থেকে সম্পূর্ণ পানি বের না করায় এই বর্ষা মৌসুমেও প্রতিটা স্পেনের উভয় দিকই পানির উপরে ভেসে রয়েছে। স্পেনের মধ্যবর্তী অংশ ৩-৪ ফুট পানির নিচে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাবারের ভেতর এখনো ৩-৪ ফুট উচ্চতায় পানি রয়েছে।
রাবারের উপর দিয়ে দিনরাত বালু পাথর বোঝাই ইঞ্জিন চালিত ট্রলার চলাচল করছে। চলন্ত ট্রলালের ফ্যানের আঘাতে রাবার কেটে ড্যাম ক্ষতবিক্ষত হওয়ার আশংকা রয়েছে। পাম্প মেশিন দিয়ে রাবারের ভেতরের পানি বের করা জরুরি। অন্যতায় আগামী ফসল মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার পানি আটকানো কঠিন হবে। এছাড়া রাবারে পানি থাকার কারণে হাওরে পানি কম নিস্কাসন হবে। এবারের বর্ষায় পাহাড়ি ঢল নামলে মরা জাদুকাটা নদীর পাড়ের ঘর বাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকাও রয়েছে।
রাবারড্যাম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আওয়াল বললেন, উপজেলা সেচ কমিটির দেওয়া নির্ধারিত হারে রাবারড্যামের চাঁদা আদায়ের জন্য কৃষকদের দরজায় দরজায় ঘুরছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে টাকা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। টাকা না পাওয়ায় রাবারের ভেতর থেকে পানি বের করা ও বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারি নি। এসব বিষয় রাবারড্যাম পরিচালনা কমিটি এবং বিএডিসির কর্তৃপক্ষকেও অবগত করেছি।
রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. এরশাদ মিয়া জানান, কৃষকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে রাবারড্যামের ব্যয় নির্বাহ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এর ব্যয়ভারের দায়িত্ব নিতে হবে। যেখানে সরকার ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাবারড্যাম নির্মাণ করে দিয়েছেন, সেখানে প্রতিবছর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা সরকারি যে কোনো তহবিল থেকে দেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
সুনামগঞ্জ বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী হোসাইন মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান বললেন, রাবারড্যাম পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ না থাকায় হাওরের সুবিধাভোগী কৃষকদের কাছ থেকে কেয়ার প্রতি ৫০/= (পঞ্চাশ টাকা) চাঁদা রশিদের মাধ্যমে আদায়ের জন্য রেজুলেশন করে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু পরিচালনা কমিটি সেটি করতে পারেন নি। গত বছর অনেক চেষ্টা করে তহবিল সংগ্রহ করে রাবারের ছিদ্র মেরামত ও আনুষাঙ্গিক কাজ হয়েছিল। আগামী বছর এভাবে অর্থ দেবার কোন সুযোগ নেই। পরিচালনা কমিটি এখনো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন নাই। রাবারের ভেতরের পানিও বের করেন নি। এতে রাবারটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
প্রসঙ্গত. আঙ্গারুলী হাওর ও সোনার হাওরের বোর ফসল আগামবন্যা ও পাহাড়ি ঢল থেকে সুরক্ষার জন্য ৭ বছর আগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন’এর (বিএডিসির) মাধ্যমে সরকারি ভাবে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছিল। রাবার ড্যাম পরিচালনার জন্য সরকারি ভাবে কোনো বরাদ্দ নেই। রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটি সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মৃধা ব্যক্তিগতভাবে এর ব্যয় ভার নির্বাহ করে আসছিলেন। গত বছর তিনি ও তার কমিটি বিএডিসির কাছে রাবারড্যামের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে সভাপতি করে রাবারড্যাম পরিচালনার জন্য একটি নতুন পরিচালনা কমিটি উপজেলা সেচ কমিটি অনুমোদন প্রদান করেন। উপজেলা সেচ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবে রাবারড্যামের বিদ্যুৎ বিল সহ যাবতীয় ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য আঙ্গারুলী হাওরের সুবিধাভোগী কৃষকদের কাছ থেকে কেয়ার প্রতি (৩০শতাংশ) ৫০/- (পঞ্চাশ টাকা) করে রাবারড্যামের চাঁদা রশিদের মাধ্যমে আদায়ের জন্য রেজুলেশন আকারে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।


