ধর্মপাশা প্রতিনিধি
তাহিরপুরের নজরখালী ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে পাটলাই নদীর পানি টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রবেশ করায় এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জেলার মধ্যনগর ও ধর্মপাশাতে। এরই মধ্যে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের টাঙ্গুয়ার হাওর অংশে ৩০ হেক্টর বোরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে ক্রমাগত পানি বাড়ায় একটি অরক্ষিত স্লুইসগেইটের কারণে ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরের ৩ হাজার ১৬০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে সোনামড়ল হাওরের ৪৮ নম্বর প্রকল্পের অধীনে ০.৯৭৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য ১৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের উত্তর পাশে এ প্রকল্পের মধ্যবতীর্ স্থানে একটি স্লুইটগেইট রয়েছে। যেটি এখনও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্লুইসগেইটের মুখোমুখি অবস্থান করছে। এদিকে স্লুইসগেইটের পাটাতন খোলা রয়েছে। উপরের অংশে সুরক্ষা দেওয়ার কাঠ নেই। দুই এক ফুট পানি বৃদ্ধি পেলেই সোনামড়ল হাওরে পানি প্রবেশ করবে আর তলিয়ে যাবে ৩ হাজার ১৬০ হেক্টর জমির ফসল। সোমবার বিকেলে এ স্লুইসগেইটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে দিগজান গ্রামের গোলাম মুর্শেদ তপন নামের এক যুবক ফেসবুকে লাইভ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।
৪৮ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি প্রাণেশ দাস বলেন, ‘আমরা বাঁধেই আছি। স্লুইসগেইটের কাঠ কার আছে জানি না। কাঠ থাকলে ভালো হতো। স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে কাঠের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।’
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘পানি যখন হাওরে প্রবেশ করার মতো অবস্থা তখনও একটি স্লুইসগেইট অরক্ষিত থাকা পাউবোর অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সোনামড়ল হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যাবে।’
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ—সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, ‘স্লুইসগেইটের পাটাতনসহ সবই আছে। স্লুইসগেইটের উপরের যে ফাঁকা অংশটি রয়েছে সেটির কাঠ নেই। যার ব্যবস্থা করার জন্য পিআইসিকে বলা হয়েছে। তারা (পিআইসি) কাঠ এনে রাতের মধ্যেই লাগিয়ে দিবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পিআইসিকে কাঠের ব্যবস্থা করে স্লুইসগেইট রক্ষাণাবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’


